অবশেষে ঘুষের টাকা ফেরত দিল বেল্লাল

অবশেষে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের সিপাহী বেল্লাল হোসেন। সামান্য একজন সিপাহী হওয়া সত্বেও বেল্লাল হোসেন কখনও নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা, কখনও বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায় করে আসছিলেন।

জানা গেছে, সর্বশেষ গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে সিপাহী বেল্লাল হোসেন গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য চন্দ্রহার গ্রামের বাসিন্দা অবিনাশ চন্দ্র মিস্ত্রির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার দুপুরে বেল্লাল হোসেন ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য অবিনাশ মিস্ত্রি জানান, গত ৭ জানুয়ারি বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সিপাহী বেল্লাল হোসেন একটি ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফসহ তার অপর দুই সহযোগীকে নিয়ে তার বাড়িতে উপস্থিত হয়। এ সময় একটি তালিকা দেখিয়ে বেল্লাল হোসেন বলে, আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা। আপনার নামে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। জানা গেছে,বেল্লালের অপর ২ সহযোগী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের লোক নয়।

পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে বেল্লালের পরিচয় নিশ্চিত করে গত ১০ জানুয়ারি অবিনাশ মিস্ত্রি বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় সিপাহী বেল্লাল ও তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের ইন্সপেক্টর শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যস্থতায় সিপাহী বেল্লাল হোসেন ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বরিশালের উপ-পরিচালক মলয় ভুষণ চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে সিপাহী বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু