গোপালগঞ্জে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহপরিচারিকা

 
গোপালগঞ্জে ধর্ষণের শিকার আট মাসের  অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী (১৯) এখন প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পারিবারিক, সামাজিক, লোকলজ্জা ও ধর্ষকদের হুমকিতে ওই তরুণীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
 
ওই গৃহকর্মী সম্প্রতি এ ঘটনায়  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের  বাদশা শেখের ছেলে  সেলিম (৩৫), মোমরেজ দাড়িয়ার ছেলে মিরাজ দাড়িয়া (৫০) ও ধর্ষণে সহায়তাকারী সেতু বেগমকে (২৫) আসামি করে  গোপালগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি নালিশী পিটিশন দায়ের করে। এরপর ধর্ষকরা  জোর করে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে  তার কাছ থেকে স্বাক্ষর  নিয়েছেন বলে ওই গৃহকর্মী অভিযোগ করেছে। কোর্টে পিটিশন দায়ের করায় ধর্ষকরা এ কাজ করেছে বলে ওই গৃহকর্মী জানায়।
 
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ৩ বছর আগে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কামাইদা গ্রামের ওই তরুণী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার এসআই কামরুল ইসলামের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। দেড় বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই কামরুল মারা যায়। কামরুলের স্ত্রী সেতু বেগম একমাত্র সন্তান ও গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের মামা বাড়িতে চলে আসেন। তারা সেখানে বসবাস শুরু করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সুন্দরী সেতু বেগম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বাড়িতে প্রতিবেশী  সেলিমসহ অন্যান্য যুবক আসাযাওয়া করতে থাকে।
 
এরই মধ্যে সেলিম, সেতুর গৃহপরিচারিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব ওই গৃহপরিচারিকা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০১৭ সালের ৪ মার্চ রাতে সেতুর সহযোগিতায় ওই বাড়ির একটি কক্ষে গৃহপরিচারিকাকে আটকে ধর্ষণ করে সেলিম। এভাবে তাকে ৭ দিন ওই বাড়িতে ধর্ষণ করা হয়।
 
পরে এক পর্যায়ে সেতুর বাবা সৌদি প্রবাসী মিরাজ দাড়িয়া দেশে আসেন। ওইসময় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সেতুর মা জেসমিন বেগমের শরীরে অস্ত্রোপচার হয়। ওই কারণে মায়ের সেবা করতে দু’দিন সেতুকে হাসপাতালে থাকতে হয়। তখন গৃহপরিচারিকা ও সেতুর বাবা মিরাজ দাড়িয়াকে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলো। ওই সুযোগে মিরাজ দাড়িয়াও পর পর দু’দিন তাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই গৃহ পরিচালিকা।
 
এ ব্যাপারে ওই গৃহপরিচারিকা অভিযোগ করে বলে, ‘আমার দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে ধর্ষকরা আমাকে নানান হুমকি দিচ্ছে। আমি খুব অসহায়। আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার বৃদ্ধ বাবাকে ওরা তিন দিন ধরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পরে সেখান থেকে কৌশলে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তার জোর করে আমার কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।’
 
গৃহকর্মী আরো বলে, ‘পুলিশসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের যুবকের সাথে সেতু বেগমের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সে তাদের দিয়েও তাকে ভয় দেখাচ্ছে। আমি কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব কিছুই বুঝতে পারছি না। এ সমাজে আমার ঠাঁই নেই। আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ নেই। আমি আমার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই। সেই সাথে  ধর্ষকদের বিচার চাই।’
 
অভিযুক্ত সেলিম সেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষ আমাকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। জোর করে স্ট্যাম্প আদায় বা তার পিতাকে আটক রাখার বিষয়টি আমার জানানেই।
 
সেতু বেগমের মোবাইলে বার বার ফোন দিয়ে মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক হযরত আলী বলেন, কোর্টের নির্দেশ আমরা পিটিশনটি এফআইআর করেছি। এখন আমরা এ মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছি।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ