জলবায়ু পরিবর্তনে ভাসমান স্থাপনা

উন্নত ও ধনী দেশগুলোর শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আরাম আয়েশের ফলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে। এর ফলে ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর উষ্ণতা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, ২০১৬ সালে  বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড জমা হয়েছে, তা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ৩৬ কোটি কিলোটন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। বিশেষ কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠী নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে পড়বে সারা বিশ্বের মানুষ। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে এশিয়া আর আফ্রিকা মহাদেশে।

বেশ কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিম এন্টার্কটিকার বরফ গলতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি গলছে আমুন্ডসেন সমুদ্র অঞ্চলের বরফ। মূলত সমুদ্রের উষ্ণ স্রোত নিচ থেকে গলিয়ে দিচ্ছে বরফ। পশ্চিম এন্টার্কটিকায় যে পরিমাণ বরফ আছে, তা গললে বিশ্বজুড়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা ১০ ফুটেরও বেশি বেড়ে যাবে। এতে করে তলিয়ে যাবে বিশ্বের অনেক বড় বড় শহর। পানির উচ্চতা বেড়ে স্থলভাগ তলিয়ে গেলে পরিণতি কী হবে সেই প্রশ্ন এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে সামনে চলে এসেছে। তবে কোনো কোনো স্থপতি মনে করছেন, ভাসমান স্থাপনার একটি চমত্কার সমাধান খুঁজে বের করেছেন।

প্রথমে কেউ কেউ মজা করে ভাসমান স্থাপনার বুদ্ধি নিয়ে হাজির হলেও নেদারল্যান্ডসে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ভাসমান স্থাপনা। কারণ দেশটির অর্ধেক ভূখন্ডই পানির নিচে আর বাকি অর্ধেক ভূখণ্ডই সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি। দেশটির উল্লেখযোগ্য অংশের ভূখণ্ড সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক মিটার উঁচুতে রয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মূল ভূখণ্ড পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প পথ খুঁজছে নেদারল্যান্ডস।

ইতোমধ্যে আমস্টারডামে এই ভাসমান স্থাপনার নমুনাও তৈরি করেছেন স্থপতিরা। আর এবার দেশটির রাজধানীতে ড্যানিশ ফার্ম বিআইজি এবং রোটারডাম স্টুডিও বারকোড আর্কিটেক্ট এমন একটি ভাসমান ভবনের নকশা উপস্থাপন করেছে যেখানে থাকবে ৪৬ হাজার বর্গ মিটারের ভবন।

প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে কোপেনহেগেনে শিপিং কন্টেইনারের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানির উপরে তৈরি করেছে ছাত্রাবাস। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কখনো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এছাড়া খরচও নাকি সাধ্যের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এই বিকল্প পদ্ধতি যদি সত্যি সত্যি কার্যকরী হয় তাহলে হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভাসমান স্থাপনাকেই সবার আগে বেছে নেবে মানুষ।-সিএনএন

ইত্তেফাক/নূহু