পুলিশ হেফাজতে মোঃ শাহজালাল ওরফে শাহ জামালের দুই চোখ উৎপাটনের অভিযোগে খুলনার খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে চোখ উৎপাটনের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত- সেটি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনার পরিদর্শক মোঃ বাবলুর রহমান খান খুলনা মহানগর আমলী আদালত ‘গ’ অঞ্চলে ১১৪ দিন পর এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিকে বাদীপক্ষের অভিযোগ- মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়েও বাদীকে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয় যুবক শাহজালালের দু’ চোখ উৎপাটন মামলার আসামিরা। কিন্তু পিবিআই’র তদন্তে তাদের সে আশা পূর্ণ হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনকে দায়সারা, দায়িত্ব অবহেলা এবং পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন শাহজালালের পিতা মোঃ জাকির হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতেই শাহজালালের চোখ তোলা হয়। যা তার ছেলের সাক্ষ্যতেই প্রমাণ হয়েছে। সেখানে যদি পুলিশকেই নির্দোষ বানানো হয়, তাহলে শাহজালালের চোখ উঠালো কারা?’ এছাড়া এতদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে যদি পিবিআই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করতে না পারে তাহলে তদন্তেরইবা প্রয়োজন কি ছিল?
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদনকে পরস্পরবিরোধী, মনগড়া এবং সর্বোপরি খালিশপুর থানা পুলিশকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই ইচ্ছামাফিক তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছেন। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করবেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর