মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের দিগন্ত জোরা মাঠ হলুদের সমারোহে ভরে গেছে। এসময় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেতে কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর এই মধু দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহ ভারত, মালেশিয়া, কুয়েত সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে মৌ চাষিরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
বেকার যুবকরা এখন নিজের অর্থ উদ্ভাবনী চিন্তা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিনিয়োগ করেছে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন খাতে। ৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ ভর্তি সরিষা ফুল। মৌমাছি ফুলে ফুলে করছে পরাগায়ন। সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি পালনের কারণে ক্ষেতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। এছাড়া সরিষা ফসলের ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে কোনো বাধা ছাড়াই ফুলের পরাগায়ন সম্ভব হয়। ফসল তুলনা মূলক বেশি হয়। এছাড়া ক্ষেতের পাশে বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন ও হচ্ছে নির্বিঘ্নে।
প্রতি বছর শীতের এই মৌসুমে মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয় মৌয়ালরা। ওই সব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। যুবক-যুবতি, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রকৃতিপ্রেমী সকল শ্রেণির মানুষ এই অপরূপ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু আহরণকারীরা।
ঘিওরের মাইলাগী, পুর্বপাড়া, হেলিপ্যাড, কুস্তা, সিংজুরি,বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সরিষা খেতে বাক্স ভর্তি মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে আসা সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের আ. মান্নান, সাইফুল, হাবিবুল্লাহ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পোষা মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য ঘিওরে এসেছি। বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতে ৩শ' থেকে ৪শ' বাক্স রেখেছি। এ বছর প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪টি খামারে ১০ থেকে ১২ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে ধারণা করছি। মাঠে তাঁবু টানিয়ে ৬/৭ জন সাময়িক বসবাসের ব্যবস্থা করেছি। তবে প্রতি কেজি মধু ৩শ' ৭০ টাকা থেকে ৪শ' টাকা বিক্রয় করছি। ঘিওর থেকে মধু সংগ্রহ শেষ করে মাদারীপুরে ও গোপালগঞ্জ ধনিয়া ক্ষেতে মৌ-চাষ শেষে সুন্দরবনে যাবো। তবে সারা বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা পর্যায়ক্রমে মৌচাষ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফউজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে উপসি, বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, টরি-৭ সহ বিভিন্ন জাতের মোট-৬ হাজার ১শ' ১২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষ করে মৌয়ালরা অধিক লাভবান হচ্ছে। সরিষার কোনো ধরণের ক্ষতি হয় না। তবে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে।
ইত্তেফাক/এসএস