মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা কুশনার

 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কট্টর ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠার মুখ্য ব্যক্তি করার পর হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে কর্মকর্তাদের প্রভাব বজায় রাখার লড়াইটা প্রকট হয়। এটা নিয়ে চিফ স্ট্রাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে কুশনারের দূরত্ব আরো বাড়তে থাকে। দুজনেই একের পর এক কৌশলের আশ্রয় নেন একে-অপরকে ঘায়েল করতে। ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি:ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ বইতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
 
বইয়ের ‘গোল্ডম্যান’ অধ্যায়ে লেখক লিখেছেন, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ও জামাই কুশনারের সঙ্গে চিফ স্ট্রাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের ক্ষমতা ধরে রাখার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। তারা বুঝতে পারছেন যে, ব্যানন ও তার সহযোগীরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। কুশনারের বিশ্বাস, ব্যানন তাদের ক্ষতি করার জন্য যেকোন কিছুই করবে। তার দৃষ্টিতে ব্যানন একজন ইহুদি বিরোধীও। আর এটাই ছিল মূল ইস্যু।
 
বইতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জন্য ইসরায়েল ও ইহুদি একটি অন্তর্নিহিত কৌতূহলের বিষয় ছিল। ট্রাম্পের নিষ্ঠুর বাবা ছিলেন সরব ইহুদি বিরোধী। নিউ ইয়র্কের আবাসন ব্যবসার বিবাদে ইহুদি ও নন-ইহুদি ইস্যু জোরালো হলে ট্রাম্প পরিবার ইহুদি বিরোধিতার পক্ষ অবলম্বন করে। ওই সময় ইহুদি বিরোধিতায় নিজের বাবাকেও ছাড়িয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই ট্রাম্প বিশ্বে ইহুদিদের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কে বড় হয়েছেন, নিজের ব্যবসা গড়েছেন। গণমাধ্যমে নিজের খ্যাতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তা মেটাতে এগিয়ে আসেন জামাতা কুশনার। ট্রাম্প একজন ইহুদি বিরোধী মানুষ নন সেটা প্রমাণে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন তিনি। এখন ট্রাম্পের মেয়ে, কার্যত ফার্স্ট লেডি ইভানকা ট্রাম্প ধর্মান্তরের পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করা প্রথম ইহুদি।
 
কুশানারকে ইসরায়েলের দায়িত্ব দেওয়াটা ট্রাম্পের জন্য ইহুদি ইস্যুতে একটি পরীক্ষা ছিল। ইসরায়েল ইস্যুতে কুশনারের সফলতা নিয়েও আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। কয়েকবারই তিনি প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেছেন, জ্যারেড কুশনার নতুন হেনরি কিসিঞ্জার হতে চলেছেন। তবে ইসরায়েল ইস্যুতে কুশনারকে খালি মাঠে গোল করার সুযোগ দিতে চাননি স্টিভ ব্যানন। তিনি এ সময় কাছে টানেন লাস ভেগাসের ধনকুবের শেলডন আডেলসনকে। এই অ্যাডেলসন ইসরায়েল ইস্যুতে কুশনারের উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলতেন, তাকে অবজ্ঞা করতেন। ব্যানন এক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন কিছুটাও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুশনারকে কয়েকবারই বলেন, অ্যাডেলসনের সঙ্গে আলাপ করেই ইসরায়েল ইস্যুতে এগোতে হবে।
 
বইতে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার একজন অর্থোডক্স (কট্টর) ইহুদি হিসেবে বড় হয়েছেন। হোয়াইট হাউসে তার দুই ঘনিষ্ঠ সহকারী আভ বার্কোউইচ এবং জশ রাফেল দুই জনই কট্টর ইহুদি। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে কুশনারের সব কাজ বন্ধ থাকে সাবাথ (ইহুদিদের বিশ্রাম দিবস) পালনের জন্য।
 
বইতে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কুশনারের পরিবারের একজন পুরনো বন্ধু। নেতানিয়াহু যখন নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তখন স্টিভ ব্যাননের অপসারণের কথা বলেছিলেন। ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে ব্যাননকে আরো কোনঠাসা করতে কুশনার হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ডম্যান জিউস’ বলে পরিচিত গ্যারি কহনকে নিয়ে আসলেন। কহনের সঙ্গে আগে কাজ করেছিলেন কুশনার।
 
এসব অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যেও কুশনার মনস্থির করেন যে, শ্বশুর ট্রাম্প যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা তিনি সম্পূর্ণ করবেন। তবে ব্যানন প্রায়ই কুশনারকে কটাক্ষ করে বলতেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন। এটা ঠিক যে কিছু মানুষের কাছে কুশনার বোকা ও হাসির পাত্র। তবে সে একজন মানুষ যিনি তার স্ত্রী ও কহনের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং নিজেকে বিশ্বের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনের চালক হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। হেনরি কিসিঞ্জারের মতে, হোয়াইট হাউসে ব্যানন ও কুশনারের এই দ্বন্দ্ব হলো, ‘ওয়ার বিটউইন দ্যা জিউস এন্ড দ্যা নন-জিউস’।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ