ভিন্ন ধারার ‘খেলনা ব্যাংক’ এর যাত্রা শুরু

প্রতিটি শিশুর কাছেই খেলনা খুব পছন্দের। গবেষণায় দেখা যায় শিশুদের মেধা বিকাশে খেলনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলনা দিয়ে শিশুদের মুখে হাসি ছড়িয়ে দিতে ২০১৫ সালে খেলনা ব্যাংকের যাত্রা শুরু করে। খেলনা ব্যাংক শুধুই খেলনার ব্যাংক যেখানে একজন বন্ধু তার অন্য বন্ধুর জন্য খেলনা জমা করতে পারে। আর এই জমা রাখা খেলনাগুলো অন্য বন্ধুরা যাদের নিজেদের খেলনা নেই তারা তাদের সুপ্তপ্রতিভা দেখিয়ে খেলনা ব্যাংক থেকে খেলনা জিতে নিতে পারে। খেলনা দেয়া নেয়ার মাধ্যমে শেয়ারিং কেয়ারিং শিখানো খেলনা ব্যাংকের এর প্রধান উদ্দেশ্য। 
 
বন্ধুত্বতা এবং শেয়ারিং কেয়ারিং-এর এই শিক্ষা গড়ে তুলবে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি প্রজন্ম। যারা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন কাজের দিকনির্দেশনা দেবে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করে খেলনা ব্যাংক। তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু করে একটি
পরীক্ষা মূলক কর্মসূচি। খেলনা ব্যাংক খুব সফল ভাবে এই স্কুলের শিশুদের বুঝতে পারে কিভাবে নিজের পছন্দের খেলনা দেবার মাধ্যমে আরেকজন নতুন বন্ধু বানানো যায় এবং আরেকজন বন্ধুর মুখে হাসি ফোটানো যায়। আর এভাবেই শুরু হয়ে খেলনা ব্যাংকের পথচলা। ২০১৬ সালের মধ্যেই খেলনা ব্যাংক পৌঁছে যায় দেশের সবকটি  বিভাগে। আর ২০১৭ সালের মধ্যে খেলনা ব্যাংক পেয়ে যায় ৬৫ হাজার ৫৯২ বন্ধু যারা খেলনা দিয়ে অথবা খেলনা নিয়ে অংশ নেয় হাসি ফোটানোর এই যাত্রায়। ২ বছরের এই পথচলায় খেলনা ব্যাংক তৈরি করে ৪৩ টি খেলনা লাইব্রেরি। যেখানে শিশুরা বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলাধুলার সুযোগ পায়।
 
IMG0
 
স্কুল টিচারদের মতে খেলনা লাইব্রেরি গ্রামের শিশুদের স্কুলে আসার আগ্রহ একটু হলেও বাড়িয়ে দিয়েছে। খেলনা ব্যাংক খেলনা দেওয়া নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে আয়োজন করে মজার মজার খেলাধুলা, নাচ, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের। এতে করে শিশুরা পায় নতুন বন্ধু বানানোর সুযোগ। খেলনার মাধ্যমে হাসি ছড়িয়ে পড়ে শিশুদের মুখে। ১১ই  জানুয়ারির তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল খেলনা ব্যাংক আয়োজন করেছে আনন্দঘন এক অনুষ্ঠানের। যেখানে অংশগ্রহণ করছে বিভন্ন স্কুল এর বন্ধুরা যারা খেলনা ব্যাংকের সহযাত্রী। বিভন্ন মজার মজার আয়োজন করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। তার মধ্যে রয়েছে এক ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ, যা হলো খেলনা ক্যাপসুল। এখন যেধরনের খেলনা দিয়ে শিশুরা খেলেন আজ থেকে ৬০ বছর পরে হয়তো সেগুলোর অনেক পরিবর্তন আসবে। খেলনা ব্যাংক এই সময়ের খেলনা গুলো একটি বাক্সে ভোরে মাটির নিচে পুঁতে রাখবে যা উত্তোলন করা হবে ২০৭১ সালের মার্চ মাসে। স্বাধীনতার ১০০ বছর পরে। এছাড়া দুই বছরের যাত্রা নিয়ে খেলনা ব্যাঙ্ক একটি বই এর মোড়ক উন্মোচন করবে এই অনুষ্ঠানে। 
 
ইত্তেফাক/ রেজা