শিশু জান্নাতের অপরাধ কি ছিল

 
পরিকল্পিত ভাবে বাবা, দাদা ও দাদি কালো ও অপরিপুষ্ট শিশু কন্যা সন্তানকে হত্যা করে চুরির নাটক সাজিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীদের বোকা বানাতে চেয়েছিল। রবিবার ইত্তেফাকে ঈশ্বরদীতে আতিকা জান্নাত নামে শিশুকন্যা চুরি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কিন্তু ঈশ্বরদী পুলিশ প্রশাসনের প্রচেষ্টায় শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে।
 
দেড় মাস বয়সী আতিকা জান্নাতের লাশ উদ্ধার এবং এই ঘটনায় শিশুটির বাবা খান মো. আশরাফুল ইসলাম, দাদা মো. আইয়ুব আলী খান, দাদি সেলিনা খান ও শিশুটির বাবার মামী জোস্না খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ‘চুরি হওয়া’ শিশুকে খুঁজে পেতে মাইকিং, পুলিশি অভিযান রাত এগারোটার দিকে ঘরের আলমারির মধ্যে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর তাকে হত্যার অভিযোগে ৪জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
ঈশ্বরদীর কলেজ রোড এলাকার অরনকোলায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। রবিবার ঈশ্বরদী থানা থেকে আসামিদের পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
 
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান, শনিবার নিশি খাতুন তার বড় মেয়েকে নিয়ে ছাদে রোদ পোহাতে গেলে এই ফাঁকে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে ঘরের আলমারিতে লুকিয়ে রাখে পাষণ্ড বাবা আশরাফুল। তাকে সাহায্য করে তার বাবা-মা ও মামী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা শিকার করেছে আশরাফুলসহ গ্রেফতারকৃত ৪জন। নিজের ঘরেই আলমারিতে পাওয়া গেছে শিশুটির লাশ।
 
শিশু জান্নাতের অপরাধ কি ছিল- এব্যাপারে অপরাধীরা পুলিশকে জানিয়েছে, কন্যা শিশু, কালো বর্ণের এবং সাত মাসে ভূমিষ্ট হওয়া অপুষ্ট সন্তান। একটি ঘৃণ্য অপরাধ পরিকল্পনার সত্য প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি