আমতলীতে রাস্তার মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করায় মহাসড়কে ফাটল

আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশ থেকে খাস জমি থেকে ইট তৈরির জন্য মাটি কেটে নেওয়ায় সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে সড়কটি এখন হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে। যে কোনো সময় মাটি ধসে কলাপাড়া ও কুয়াকাটার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইট ভাটার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ ১৫ দিনের মধ্যে গর্ত ভরাটের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে—২০১৫ সালে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে সেকান্দারখালী গ্রামে কেএবি  ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা তৈরি করেন ঢাকার ব্যবসায়ী মোঃ লিটন মিয়া। গতবছর ২০১৭ সালে ভাটার মালিকানা হাতবদল হয়। বর্তমান মালিক বৈঠাকাটা গ্রামের সাইফুল ইসলাম। সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে মালিক ভাটাটি কৃষি জমি এবং আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ১০ ফুট দূরত্বে স্থাপন করেন। পাশেই রয়েছে সেকান্দার খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাটার কারণে গ্রামের পরিবেশ দূষণসহ বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের  লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকার কৃষিসহ কৃষিজীবীরা। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে ইট তৈরির জন্য মহাসড়কের পাশের ঢাল থেকে ১৫-২০ ফুট গভীর খাদ করে খাস জমির মাটি কেটে নিয়া যাওয়া হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের ঢালে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাটি ধসে যেকোনো সময় আমতলী-কুয়াকাটা মহসড়কের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এটা ঘটলে কলাপাড়া ও কুয়াকাটার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে—অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সরোয়ার হোসেনের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া, মাটি কেটে নেওয়ার কারণে হওয়া গর্ত তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভরাটের নির্দেশ প্রদান করেছেন। ভাটার মালিক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘মহাসড়কের ঢাল থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, তা ভরাট করে দেওয়া হবে।’ আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সকল ইটভাটায় পর্যায়ক্রমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সেগুলো চিহ্নিত করে মালিকদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু