দেশের সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনালের সরকারি কৌঁসুলি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনায় তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আরো দক্ষতা অজর্নের পরামর্শ দিয়েছেন।
সাইবার ক্রাইম আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম সামিম বলেন, এ ধরনের মামলা পরিচালনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতার অভাবে চার্জশিটে বড় ধরনের দুর্বলতা থাকায় মামলার বিচারে বিলম্ব ঘটছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৩৫ ভাগ সাইবার অপরাধ মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার আইসিটি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা আরো বেশি হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে ৫ শতাধিক সাইবার অপরাধ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মোট মামলার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মামলা হয়েছে আইসিটির ৫৭ ধারায়। বাকি মামলাগুলো হয়েছে ৫৪,৫৫,৫৬,এবং ৬৬ ধারায়। মাত্র ১৫ টি মামলা হয়েছে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়ে।
ট্রাইবুনাল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫ টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলি এ সকল মামলায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই সাইবার ক্রাইম মামলা যথাযথ ভাবে পরিচালনার জন্য একটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেটিভ ব্যুরো গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
পুলিশের সদর দফতর ৫৭৫ সদস্যের বিশেষ তদন্ত ব্যুরো গঠনের জন্য প্রস্তাবটি মন্ত্রনালয়ে পাঠায়। মন্ত্রনালয় ৫০৫ সদস্য অনুমোদন করেছে। পুলিশের সহকারি মহাপরিদর্শক (এআইজি- অরগানাইজেশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট) ফারুক আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাপন মন্ত্রণালয় অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই ব্যুরো শিগগির কাজ শুরু করতে পারবে বলে তিণি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশের সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে আইসিটি আইনে এক হাজার ৪১৭টি মামলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে