ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে অনভিপ্রেত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে গেট এবং তালা ভেঙ্গেছে তারাই বড় অপরাধী এবং তারাই এই ঘটনার জন্য মূলত দায়ী।
বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও ন্যাপ ভাসানী আয়োজিত ৬৯' এর শহীদ মতিউর রহমানের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘেরাও করে তার অফিস ভাংচুর করে, অফিসের গেট ভাংচুর করে, অশালীন ভাষায় গালাগালি করে, তার দিকে তেড়ে গিয়ে যারা অপরাধ করেছেন সেই অপরাধটি হচ্ছে সবছেয়ে বড় অপরাধ। সেই অপরাধের কারণেই পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ ঘটেছে।
সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ঢাবি কতৃপক্ষকে অনুরুধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যারা এই ভাবে ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে শাবল দিয়ে গেট ভেঙ্গেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কারণ দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীঠের উপাচার্যকে এই ভাবে ঘেরাও করে যে ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং পরবর্তী ঘটনাও দুঃখজনক সেখানে যারা বা যেই জড়িত থাকুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ঢাবি কতৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, দেশে যখন স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটিয়ে, বিভিন্ন যায়গায় নানা ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে, বেগম খালেদা জিয়া অাদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া এবং আসার সময় সেখানে দাঙ্গা হাঙ্গামা ঘটিয়ে দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের মানুষ এখন সচেতন। সুতরাং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে কোন লাভ হবে না।
'বিএনপির নেতাদের জেলে রেখে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না' বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা আবার প্রেট্রোল বোমার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আপনাদের নির্বাচন প্রতিহতের নমুনা আমরা ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে দেখেছি। সরকার পতনের লক্ষে আন্দোলনের নমুনা ২০১৫ সালে দেখেছি। সুতরাং আপনার এই বক্তব্যের মধ্যে আবারও প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপের হুমকি জড়িয়ে আছে।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আপনারা নির্বাচন প্রতিহতের কথা বলে অান্দোলন করে নিজেরা নিজেদেরকে প্রতিহত করেছেন। সুতরাং আবার নির্বাচন প্রতিহতের কথা বললে আপনারা যে ২০১৪ সালে অাত্মহননের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এম এ ভাসানীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়েরা মহসিন এমপি, জাতীয় পার্টির নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকি, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআই