এক লাখ জাল রুপি বিক্রি হয় ১৫ হাজার টাকায়

এক লাখ জাল রুপি তৈরিতে খরচ সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা। আর (এক লাখ জাল রুপির বান্ডিল) বিক্রি হয় ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন জাল টাকা ও জাল রুপি তৈরির গুরু হিসেবে পরিচিত দরুদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান। ঢাকা মহানগর ডিবি (উত্তর) পুলিশ ও সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট সোম ও মঙ্গলবার রাজধানী ও রাজশাহী থেকে দরুদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান ও তার তিন সহযোগী  তরিকুল ইসলাস, মজিবুর রহমান ও জয়নুল আবেদীনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাদের বিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি অ্যান্ড প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য।
 
তিনি বলেন, দরুদুজ্জামান বিশ্বাস ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশি জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরি করে আসছেন। তার চক্রটি এই জাল রুপি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সরবরাহ করত। তিনি আমাদের মোস্ট ওয়ানটেড তালিকায় ছিলেন। আগে তার বিরুদ্ধে ৬টি  মামলা রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে আদাবর থানায় দরুদুজ্জামানসহ তার চক্রের আটজন গ্রেফতার হয়। পরে দরুদুজ্জামান জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও এ প্রতারণা শুরু করেন।
 
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, গ্রেফতারকৃত মজিবুর ও জয়নুলের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল টাকা তৈরির কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে জাল টাকা বানিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিত।
 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, জামিন পাওয়া সবারই আইনি অধিকার। এসব চক্রের সদস্য জামিনে বের হয়ে এমন কাজে আবারও জড়িয়ে পড়ে। এখানে পুলিশের করার কিছু থাকে না। তিনি বলেন, গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে দরুদুজ্জানকে ২ লাখ জাল রুপিসহ আমরা গ্রেফতার করি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীর শাহ মখদুম এলাকায় অভিযান চালিয়ে দরুদুজ্জামানের সহযোগী তরিকুল ইসলামকে ১০ লাখ ২৮ হাজার জাল রুপিসহ গ্রেফতার করা হয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই