রমেক লিফটের গর্তে পড়ে রোগীর মৃত্যু, মামলা ও ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

 
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় লিফটের গর্তে পড়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় গাইনি ওয়ার্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। 
 
জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল কাফির ছেলে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ শামসুজ্জোহা পেটের ব্যথা নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্যাসট্রলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সকালে তিনি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় গাইনি ওয়ার্ডের সামনে লিফট দিয়ে নীচে নামতে যান। এ সময় তিনি লিফটের সামনের দরজা ফাঁক দেখে হাত দিয়ে তা খোলার চেষ্টা করলে অসাবধানতাবশত লিফটের গর্তে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালের কর্মচারীরা তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
 
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সবগুলো লিফটই উঠা-নামার সময় সামনের দরজাগুলো খোলা থাকছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামগঞ্জের সাদাসিধে লোকজন প্রায়ই লিফটের দরজা খোলা দেখে সেখানে উঠতে গিয়ে আহত ও নিহত হচ্ছেন। রোগীসহ তাদের অভিভাবকরা প্রায়ই লিফটে উঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। 
 
হাসপাতাল পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় জানান, হাসপাতালের ১১টি লিফটই অনেক পুরাতন। লিফটের বাহিরের দরজাগুলো এমনিতেই খোলা যায়। এ কারণে হাসপাতালের ৩য় তলায় ওই লিফটের দরজা খুলে শামসুজ্জোহার মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। 
 
ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রকিবুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল গণপূর্ত বিভাগ থেকে দেয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা সেখানে লিফট পরিচালনার জন্য গণপূর্তের লোক থাকার কথা। কিন্তু প্রায়ই সময় লিফট পরিচালনার দায়িত্বে কেউ থাকে না। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল গফফার জানান, লিফটগুলো অনেক পুরাতন। এগুলো বদলানোর জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এক বছরের মধ্যে হাসপাতালের ১১টি লিফটসহ সারাদেশে হাতে পরিচালনা করা যেসব পুরাতন লিফট আছে সেগুলো বদলানো হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি