উপজেলার বনগাঁও এলাকায় গভীর নলকূপের পাশে বিধি বহির্ভূতভাবে আরেক নলকূপ স্থাপন ও সহায়তার অভিযোগে নলকূপের মালিক ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ইউএনওসহ সাতজনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী বনগাঁও কৃষক সমবায় সমিতির লিমিটেডের পক্ষে আমিনুল ইসলাম।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড (বিআরডিবি) থেকে ঋণের মাধ্যমে গণকো নং ৭৬, জেল নং ১৬ একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে এলাকার কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার্থে পানি সরবরাহ করে আসছেন। গত ৯ জানুয়ারি একই গ্রামের ইসরাফিল গংরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে একই মৌজায় বিএডিসি’র একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি গভীর নলকূপের দুই হাজার পাঁচশ’ ফুট দূরত্বে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করার কথা। কিন্তু ওই নিয়ম অমান্য করে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজারের সহায়তায় ওই নলকূপটি স্থাপন করে একই মাঠে পানি সরবরাহ শুরু করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে শেরপুরের সহকারী জজ আদালতে গত ৩ জানুয়ারি নলকূপের মালিক ইসরাফিল গং ও ঝিনাইগাতী উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ইউএনও, পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার, বিএডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সাতজনকে আসামি করে একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আলোকে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্যে নোটিস প্রদান করে।
বিএডিসি জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান বলেন, সেচ কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে দূরত্ব নির্ধারণ করেই নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইউএনও ফারহানা করিম বলেন, আমিনুলের সেচ পাম্পটির গভীরতা নিয়ে জটিলতা থাকায় বিএডিসি এ সেচ পাম্পটির অনুমোদন দেয়। এছাড়া আমিনুলের সেচ পাম্প থেকে পানি নিয়ে চাষাবাদ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন থেকে হয়রানি ও নাজেহাল হওয়ায় তার পাম্পের পানি দিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করতে আগ্রহী নয়। তিনি আরো বলেন, মামলা হয়েছে। আদালতে জবাব দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু