নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের বাড়ি মধুপুর গ্রামের মৃত আশমত আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী শওকত আলীর বয়স ৬৫ পেরিয়ে গেলে এখন পর্যন্ত সরকারের বয়স্ক কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতার কোন সুবিধা পাননি। ফলে বয়সের ভারে দুর্বল হয়ে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী আশমত আলী জানান, আমি জন্ম থেকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। সংসার জীবনে আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে। গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে অনেক কষ্টে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছি। বছর তিনেক আগে আমার দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। যা সহায় সম্বল ছিল মেয়ের বিয়ে দিয়ে তা শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে আমার বড় ছেলে রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে সৈয়দপুরের একটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। আমার বয়স বেড়ে যাওয়ায় আমি আর চলতে না পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সকলের কাছে ধর্না দিয়েও আমার একটি প্রতিবন্ধী কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে পারছি না।
তিনি আরো বলেন, গত ২০১৬ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধন করে আমাকে একটি কার্ড প্রদান করা হয়। আমি কার্ডটি হাতে পেয়ে ভেবেছিলাম এখন মনে হয় সরকারি সুযোগ সুবিধা পাব কিন্তু কার্ড হাতে পাওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা সরকারের বয়স্ক কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতায় আমার নামটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে কথা বললে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনিমুন আক্তার বলেন, তার বিষয়টি আমি জানি না। তাছাড়া তিনি কখনো আমার কাছে আসেননি। যখন বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার সময় আসে তখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামের তালিকা দেয় তালিকায় তার নাম আসলে অবশ্যই করে দেব। আর যদি চেয়ারম্যান মেম্বার না দেয় সেক্ষেত্রে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি করে দেব।
ইত্তেফাক/এসএস