প্রতিদিনের মতো বুধবার বেলা ১১টায় স্কুল শেষে বাসায় ফিরে ছাত্র নাহিন আহমেদ (৭)। পোশাক পরিবর্তন করেই বাসার সামনে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠে সে। হঠাত্ প্রতিবেশী মশিউর (১৮) তার সঙ্গে ক্রিকেট খেলার কথা বলে তাকে ভাটারা এলাকায় নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যাটিং করতে গিয়ে শত চেষ্টা করেও ব্যাটে বল লাগাতে পারছিল না নাহিন। পারবে কিভাবে? তার বয়স তো মাত্র ৭! ভালো করে ব্যাটও ধরতে শেখেনি সে। তাতে কিছু আসে যায় না মশিউরের। রান করতে না পারাটাই নাহিনের অপরাধ। তাই খেলা শেষে ক্ষোভে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নাহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মশিউর। পরে লাশ বাড্ডার আফতাবনগর হাউজিংয়ের কাশবনে ফেলে যায়। বুধবার রাতে নাহিনের লাশ উদ্ধার করে মশিউরকে গ্রেফতারের পর এভাবেই হত্যার স্বীকারোক্তি দেয় সে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আবদুল করিম জানান, শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইট দিয়ে থেঁতলানো জখম রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা একটি মামলা করেছেন। গতকাল মশিউরকে আদালতে হাজির করলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ক্রিকেট খেলতে না পারায় নাহিনকে মশিউর হত্যা করেছে।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মাত্র সাত বছর বয়সী নাহিন বড়দের সঙ্গে ক্রিকেট খেলবে, এটা অযৌক্তিক। তাছাড়া মশিউর ভাটারা যে মাঠের কথা বলছে, সেটা মূলত রাস্তা। কাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিল সেটাও বলছে না। পরিবারের অভিযোগ, মশিউর নাহিনকে অপহরণ কিংবা পাচার করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর নেপথ্যে আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিশুটির চাচা মোবারক হোসেন জানান, নরসিংদীর বেলাবো থানার নোয়াকান্দি গ্রামের হিরণ মিয়ার ২ ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে নাহিন মেজো। পরিবারের সঙ্গে ভাটারা কুড়িল বিশ্বরোড মিয়া বাড়ির ক-১২৬ নম্বর বাসায় থাকত। শেরে বাংলা আইডিয়াল হাই স্কুলের ১ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বুধবার বেলা ১১টার পর নাহিনকে না পেয়ে মসজিদে মাইকিং করা হয়। পরে মশিউরের মা জানায়, নাহিনকে তার ছেলের সঙ্গে দেখেছেন, ওর সঙ্গেই আছে।
মোবারক হোসেন জানান, বিকেল ৫টার দিকে মশিউর এলাকায় আসে। এসময় তার পরনের প্যান্ট উল্টো করে পড়া ছিল। এতে রক্ত মাখা ছাপ দেখে সবার সন্দেহ হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন সে জানায়, খেলার সময় আহত একজনকে ধরে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার সময় তার প্যান্টে রক্ত লেগেছে। পরে পুলিশ এসে মশিউরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নাহিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ