সখীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, হরতাল পালন

 
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও আধাবেলা হরতাল পালন করেছে পদ বঞ্চিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পৌরশহরে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। হরতাল চলাকালে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
 
সরেজমিনে দেখা যায়- শহরের দোকানপাট বন্ধ থাকে। হরতালের সমর্থনে পৌরশহরজুড়েই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সখীপুর পৌরশহরের মোখতার ফোয়ারা চত্বরে টায়ার জ্বালিয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-সখীপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সমাবেশ থেকে শুক্রবার আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সড়কের দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজীব আহমেদকে আহ্বায়ক এবং খান রফিক, আজাদ হীরা, আবু শিহাব, জামিল আহমেদ, রাসেল আল-মামুন ও ফরিদুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগ। এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক রনি আহমেদ বলেন, গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত ছাত্র ও ত্যাগী কর্মীদের দিয়েই কমিটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সখীপুর উপজেলা কমিটি গঠনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত শিকদার এবং পৌরমেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদের সমম্বয়েই কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
 
এদিকে হরতাল পালন শেষে পদ বঞ্চিত নেতাকর্মী-সমর্থরা ছাত্রলীগের বয়স্ক ও অছাত্রদের দিয়ে অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে সখীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুটি গ্রুপের মধ্যে চাপা ক্ষোভ, অসন্তোষ ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস