কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী

জিডিপিতে রাজস্বের অবদান ২০ শতাংশ করার তাগিদ

 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে জিডিপিতে রাজস্বের অবদান ১০ থেকে ১১ শতাংশ। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করতে হবে। এটি কঠিন হলেও সাম্প্রতিক রাজস্ব আদায়ে জনগণের সাড়ার কারণে তা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। আগামীতে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পণ্য যাতে না আসতে পারে, সেটিই হবে বড় কাজ।
 
গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান।
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এনবিআরের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির উপর গুরুত্ব দেন। এ সময় তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের রপ্তানি কমবে না। ইউরোপের দেশগুলোতে জিএসপি প্লাস অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
 
ড. মসিউর রহমান এনবিআরের কর্মকর্তাদের উত্পাদন, রাজস্ব এবং শিল্পায়নের স্বার্থ দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্পাদন বন্ধ করে আইন প্রয়োগের অর্থ নেই। এটি দেশের এবং অর্থনীতির স্বার্থ পরিপন্থী।
 
মিথ্যা ঘোষণায় দেশ থেকে অর্থপাচার করে মালয়েশিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম করার ইস্যুটি তুলে ড. আব্দুর রাজ্জাক শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে আরো জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
 
সরকারের আহরণ করা রাজস্ব সত্ উদ্দেশ্যে এবং দেশের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে কিনা, মানুষ জানতে চায় বলে মনে করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
 
এদিকে কাস্টমস দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর