বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের কুরিক্ষ্যং পাড়া থেকে সন্ত্রাসী কাজের অভিযোগে গোপন বৈঠক করার সময় ৬ পাহাড়িকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার আটককৃত সন্ত্রাসীদেরকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম লংগদুর মুখ এলাকা থেকে অপহরণের ৭দিন পর মুক্তি পণ দিয়ে ৪ তামাক চাষিকে মুক্ত করা হয়েছে বলে অপহৃতদের পরিবার জানিয়েছেন। আটককৃতরা হলেন, আবরাহাম ত্রিপুরা (৪২), জয় ত্রিপুরা (২২), মুক্তিরাম ত্রিপুরা (৪০), গুণমণি ত্রিপুরা (৪৮), মিন্টু ত্রিপুরা (৪০), অনাচন্দ্র ত্রিপুরা (২৮)। সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার অভিযোগে বান্দরবান হতে নুরুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়া (৪২) ও মোতাহের আহমদ (৪০) নামক ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি'র লেমুছড়ি বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার বাকী বিল্লাহ জানান, উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের লংগদুর মুখ এলাকা থেকে গত ২০ জানুয়ারি শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে ১০/১২জন মুখে জিম্মি করে ৪ তামাক চাষিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের উদ্ধারে আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালায়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জেএসএস নেতা অভিরাম ত্রিপুরার বাড়ি হতে গোপন বৈঠক করার সময় ৬জনকে ও বান্দরবান থেকে অপর ২ সহযোগীকে আটক করা হয়।
অপহৃতরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দেয়। মুক্ত তামাক চাষিরা হলেন, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াঙ্গাকাটা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে আব্দুল আজিজ (১৬), একই গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহিম (২৫), থিমছড়ি গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে শাহ আলম (৪০) ও দোছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত আলী মদনের ছেলে আবু সৈয়দ (৪২)।
প্রসঙ্গত, গত মাসে দোছড়ি ইউনিয়নের ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে তিন কৃষককে অপহরণ করেছিল। দীর্ঘ ৯দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে তারা উদ্ধার হয়। এছাড়া বিগত দিনে বাঁকখালী, দোছড়ি, ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ জনের অধিক লোকজনকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছিল। সকলেই মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার হয়েছে বলে অপহৃতরা জানান। অপহরণের বিষয় নিয়ে দোছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/এসএস