মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মী ও তাদের সুপারভাইজারদের কার্যক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে সহায়তামূলক রেফারেল নেটওয়ার্ক প্রবর্তনে রিচআউটের প্রজেক্ট ও গবেষণার ফলাফল বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন নিরাপদ নারী স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আলোচকদের প্যানেল।
রবিবার রাজধানীর লেকসর হোটেলে 'রিচ আউট-রিচিং আউট অ্যান্ড লিংকিং ইন: হেলথ সিস্টেম অ্যান্ড ক্লোজ টু কমিউনিটি সার্ভিসেস' প্রজেক্ট সমাপ্তি উপলক্ষে গবেষণা লব্ধ ফলাফল প্রকাশ ও একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে ২০১৩ সালে এই প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু করে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। রিচআউট কনসরটিয়ামের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মালাউই এবং মোজাম্বিকে এই প্রজেক্টের কার্যক্রম একত্রে চলে। মেরি স্টোপস বাংলাদেশ এবং আর এইচ স্টেপ-কে (এনজিও) নিয়ে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহের মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরি, যার মাধ্যমে নারীরা নিরাপদ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত হবে। এই লক্ষ্যে মেরিস্টোপস বাংলাদেশ ও আর এইচ স্টেপ-এর ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাদের সুপারভাইজারদের কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর তাদের একটি অংশকে টার্গেট করে পৃথক দুটি ট্রেনিং প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের রেফারেল কার্ড প্রদান করা হয়। এই রেফারেল কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীর তথ্য স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং সেবা গ্রহণকারী সহজে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে পৌঁছাতে পারেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে এই প্রজেক্টের একটি শর্ট ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয় যার বিষয়বস্তু ছিল 'ওয়াকিং টুগেদার: হাউ কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার্স সাপোর্ট উইমেন সিকিং মিনিস্ট্রোয়াল রেগুলেশন (এমআর) সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ'।
প্যানেলে উপস্থিত বক্তারা জানান, এ ধরণের গবেষণা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতকে সহায়তা করবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরণের গবেষণার আরো বেশি প্রয়োজন। বক্তারা এ সময় আরো জানান, কমিউনিটির নারীরা সঠিক সময়ে সরকারি অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিরাপদ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা গ্রহণ করলে নারীর স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি মাঠ পর্যায়ে মাসিক নিয়মিতকরণ সেবায় একটি কার্যকর ও মানসম্মত রেফারেল নেটওয়ার্ক তৈরি সম্ভব। এই রেফারেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নারীরা সরকারি অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সময়মত নিরাপদ মাসিক নিয়মতকরণ সেবা পেতে পারেন।’
স্বাগত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর ডিন অধ্যাপক সাবিনা ফাইজ রশিদ। গবেষণা লব্ধ ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ব্র্যাকের মিডওয়াইফ এডুকেশন প্রজেক্টের প্রধান ড. সেলিনা আমিনের পরিচালনায় 'মেনেস্ট্রিয়াল রেগুলেশন সার্ভিস ইন বাংলাদেশ: অ্যা লং ওয়ে ফ্রোম কমিউনিটি টু দ্য হেলথ ফ্যাসিলিটি ইন বাংলাদেশ' বিষয়ের ওপর প্যানেলে আলোচনা করেন লাইন ডাইরেক্টর এমসিআরএএইচ ড. মোহাম্মদ শরিফ, পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেসেন্টেটিভ ড. হালিদা হানুম আখতার, কুমুদিনি উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম এবং মেরি স্টোপস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সাপোর্ট ডাইরেক্টর ড. মোবারেক হোসেন খান। ২৪টির বেশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এ আয়োজনে।
ইত্তেফাক/ইউবি