নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শিশু মাকসুদুল ইসলাম তুহিন (৭) হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেয়। একই সঙ্গে লাশ গুমের অপরাধে ২০১ ধারায় প্রত্যেককে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করার অভিযোগে দুইজনকে ৩৬৪ (ক) ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ রায় ঘোষণা করেছে আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, তুহিনের চাচাতো ভাই মাহফুজুল ইসলাম (১৭) ও তার বাবা বিল্লাল হোসেন (৫৫)। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এমএ রহিম রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার বগাদি কান্দাপাড়া গ্রামের দন্ত চিকিৎসক নাছিরউদ্দীনের ছেলে খড়িয়া ব্র্যাক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মাকসুদুল ইসলাম তুহিন (৭)।
২০১৫ সালের ৮ মে বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়ে অজ্ঞাত অপহরণকারীদের হাতে অপহৃত হয় সে। এ ব্যাপারে নাছিরউদ্দীন ৮ মে আড়াইহাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ২০১৫ সালের ৯ মে বগাদি কান্দাপাড়া গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে আম ভর্তা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয় তুহিনকে। পরের দিন মোবাইলে ফোন করে তুহিনের বাবা নাছিরউদ্দীনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়।
২০১৫ সালের ১২ মে বিকেলে নরসিংদী থেকে মাহফুজুল ইসলামকে আটকের পর তার দেয়া তথ্য মতে আড়াইহাজার উপজেলার বগাদি গ্রামের একটি ড্রাম থেকে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিজের বাবাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে তুহিনের চাচাতো ভাই মাহফুজুল ইসলাম।এই রায়ে দন্ত চিকিৎসক নাসির সন্তুষ প্রকাশ করেছেন।
ইত্তেফাক/কেকে