জনগণ তাদের ‘গণেশ’ উল্টে দেবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইয়ুব খানের যেভাবে পতন হয়েছে, এরশাদের যেভাবে পতন হয়েছে সেভাবে এই সরকারের পতন হবে। কোনো একনায়ক, অত্যাচারী বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। পতন তার হবেই হবে। বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলনে জনগণকে স্রোতের মতো নিয়ে আসতে হবে, সুনামি সৃষ্টি করতে হবে। কারণ সুনামির কাছে অস্ত্র পরাজিত হতে বাধ্য। 
 
তিনি বলেন, যখন আমরা একটি নির্বাচনের জন্য তৈরি হচ্ছি, যখন বলছি নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে; সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে- ঠিক সে সময়ে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। দেশের জনগন অপেক্ষা রয়েছে ভোট ব্যালটে সিল মেরে গণেশ উল্টে দেবে।
 
সোমবার রাজধানীর ভাসানী মিলনায়তনে বিএনপির কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ সাংগঠনিক সভার আয়োজন করে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সভায় আরও বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার। 
 
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, হতাশার কোন সুযোগ নেই। রাত পোহালে সূর্য উঠবেই। এর ব্যতিক্রম হয় না। অন্ধকারকে দূরীভূত করে সকালের আলো ছিনিয়ে আনতে হবে। এর বিকল্প নেই। খালেদা জিয়ার কাছে জেল নতুন কিছু নয়। তিনি জেলে গেছেন। নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তিনি লড়াই করেছেন। লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন। এবং আগামী দিনেও দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
 
ফখরুল বলেন, আউয়ুব খান বিলবোর্ড দিয়ে উন্নয়ন দশক পালন করতেন। একইভাবে শেখ হাসিনাও করছেন। আজকে যে বিলবোর্ড তা তিন মাস থাকবে নাকি এক মাস থাকে উপরওয়ালা জানেন।
 
‘রাজপথে না নামলে নেতাদের চুড়ি পরিয়ে দেয়া হবে’
ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, এবার সকলে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিন, দেখা হবে রাজপথে। কত শক্তি আছে তাদের, দেখবো আমরা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘সাজানো মামলার’ রায়ের দিন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান সোহেল। 
 
তিনি বলেন, সম্মান রেখে আমরা বলতে চাই, কেন্দ্রীয় নেতারা যারা সেই দিন রাস্তায় নামবেন না, পরের দিন তাদের বাসায় গিয়ে আমরা চুড়ি পরিয়ে দেব। আমরা এবার দলের সিনিয়র নেতাদের রাস্তায় দেখতে চাই।
 
ইত্তেফাক/এমআই