মাহবুব শরীফ
বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে ফেসবুককে অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন নাগরিক অধিকার গ্রুপ, আইনপ্রণেতা ও সাংবাদিকরা। এটি নিয়ন্ত্রণে সবারই নজর ছিল ‘টার্গেট অডিয়েন্স’-এর ওপর। অর্থা বিজ্ঞাপনদাতারা টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক করার সময়ই এ বৈষম্য করেন বলে মনে করা হতো।
কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মের অ্যালগরিদমেই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা করা আছে। এ অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিজ্ঞাপনভেদে লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্য করে।
নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আপটার্নের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর অয়্যার্ড।
বিষয়টির ব্যাখ্যায় গবেষকরা বলেছেন, কোনো কোম্পানি নির্দিষ্ট দর্শকের কাছে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চাইলেও অনেক সময় ফেসবুক তা নিজের মতো করে প্রচার করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি চাকরির বিজ্ঞাপন নারী-পুরুষ উভয়কে লক্ষ্য করে প্রচারের জন্য দিলেও ফেসবুক পুরুষদেরই বেশি প্রাধান্য দেয়।
বিষয়টি যাচাই করতে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন গবেষকরা। তারা নর্থ ক্যারোলাইনায় নার্স, রেস্টুরেন্টের হিসাবরক্ষক, ট্যাক্সিচালকসহ ১১টি কাজের ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারে একই ধরনের টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক করে দেন। কিন্তু দেখা গেছে, ভবনের দারোয়ানের কাজের জন্য দেওয়া পাঁচটি বিজ্ঞাপন ফেসবুক যেসব ব্যবহারকারীকে দেখিয়েছে, তাদের ৬৫ শতাংশ নারী এবং ৭৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। কাঠ শিল্পের পাঁচটি বিজ্ঞাপনে ৯০ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০ শতাংশ শ্বেতাঙ্গকে দেখানো হয়েছে। ভয়াবহতম বৈষম্য ফুটে উঠেছে সুপারমার্কেটের ক্লার্ক চাকরি বিজ্ঞাপনে। এ বিজ্ঞাপনে যাদের দেখানো হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই নারী। আর ট্যাক্সি ড্রাইভারের বিজ্ঞাপনটি যাদের দেখানো হয়েছে, তাদের ৭৫ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ!
গবেষকরা বলেছেন, যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে- ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন প্রচার ব্যবস্থা, যা দিয়ে কোম্পানিটি প্রতি বছর হাজার কোটি ডলার আয় করে, সেটিই সম্ভবত নাগরিক অধিকার আইন ভঙ্গ করছে। তবে এ গবেষণা সম্পর্কে ফেসবুক এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
অবশ্য বিজ্ঞাপনে টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণে ফেসবুকের এ বৈষম্যমূলক আচরণের এটাই প্রথম অভিযোগ নয়। ২০১৬ সালে প্রোপাবলিকা জানায়, আবাসন খাতের বিজ্ঞাপনে বর্ণ বা জাতিগত বিচারে বৈষম্য করে ফেসবুক, যা ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট-১৯৬৮-এর লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট (এইচইউডি) ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে মামলাও করেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকের ‘বিজ্ঞাপন প্রচার ব্যবস্থাটির কারণে বিজ্ঞাপনদাতারা বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারেন না।’