গুলিভর্তি পিস্তলসহ যাত্রী আটকের পরও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ডিএমপি পুলিশের উত্তরা জোনের তৎকালীন ডিসি বিধান ত্রিপুরাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে ওই ঘটনার বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। বিধান ত্রিপুরা বর্তমানে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুলিভর্তি পিস্তলসহ ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক আজমত রহমানকে আটক করা হয়। পরে তার নামে জিডি করে পুলিশ। কিন্তু তাকে আদালতে না পাঠিয়ে তার পিতা ড. আতাহার উদ্দিনের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে এসআই সুকান্ত সাহা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, ডিসি বিধান ত্রিপুরার মৌখিক নির্দেশে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এ কারণেই তাকে পুনরায় তলব করেছে আদালত।
হাইকোটের নির্দেশে ২৪ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়েছিলেন বিমান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-ই-আজম মিয়া ও এসআই সুকান্ত সাহা। তাদের ভর্ৎসনা করে ওইদিন হাইকোর্ট বলেছিলেন, বিমানবন্দর হচ্ছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টিত এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা। সেখানে অনুমতি ব্যতীত অস্ত্র নিয়ে কেন যাবে? আরেকটা বিষয় অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই না করেই আসামিকে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে। অন্য কেউ হলে পুলিশ এভাবে ছেড়ে দিত কিনা? সোমবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ এবং ওসি ও এসআইয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জিডি করার পর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু আইনানুযায়ী সেটা না করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এতে আইন ভঙ্গ হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই