কার্পেটিং শেষ হওয়ার চার মাস হতে না হতেই রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সদ্য নির্মিত তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে (পশ্চিম প্রান্ত) ফাটল দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর জেলা গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (জিআরডিপি) আওতায় বুড়িরহাট-মহিপুর বাজার রোড ৭ কিমি রাস্তা পাকাকরণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গঙ্গাচড়ায় এটি বাস্তবায়ন করছে। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাস্তার কার্পেটিং এর কাজ শেষ হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, বেশ কিছুদিন থেকে তিস্তা সেতু সংযোগ সড়কের উপর দিয়ে তিস্তা ডান তীর বাঁধ সংরক্ষণ কাজের মালামাল নিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করছে। এতে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় রাস্তার দু’পার্শ্বে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দেবে গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গত ১২ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে রাস্তায় অধিক ধারণ ক্ষমতার বেশি মালামাল পরিবহন না করানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না।
কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, আমাদের কোনো দোষ নেই। যেখানে রাস্তা ১০ টন মাল বহন করতে সক্ষম সেখানে ৪০ টন মাল পরিবহন করছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদার রহমান বলেন, যেখানে ডিজাইন মোতাবেক ১০ টন মালামাল পরিবহন করার জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে ১০ চাকার ট্রাক দিয়ে কমপক্ষে ৩০ টন মালামাল পরিবহন করছে। এ জন্য রাস্তায় ফাটল ধরেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, যে সড়ক দিয়ে বুড়িমারী স্থল বন্দর হয়ে মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে সেখানে কিভাবে কার্পেটিং এত নিম্নমানের হয়। ডিজাইন করতে ভুল হয়েছে বলেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী এজেডএম আহসান উল্লাহ রাস্তায় ফাটলের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/নূহু