ধুনট পৌর এলাকায় আবর্জনার ভাগাড়

যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধে নাকাল মানুষ। সড়কের বাতিগুলো বন্ধ থাকায় বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। মিলছে না জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশিয়ান সনদ। বগুড়ার ধুনট পৌরসভা এলাকায় তিন দিন ধরে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার নাগরিক।

সরেজমিনে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, শহরের প্রতিটি মহল্লার সড়কের উপর যত্রতত্র ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। অপসারণ না করায় আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ময়লা-আবর্জনার কারণে পথচারীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানো হয়নি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লাগানো প্রায় আড়াই হাজার সড়কবাতি। বাতি না জ্বালানোর কারণে রাতের বেলায় পুরো শহর হয়ে পড়ে অন্ধকার। পৌরসভা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তিন দিন ধরে তালা ঝুলছে। এ কারণে কোনো নাগরিক পৌর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে গঠিত ধুনট পৌরসভার আয়তন ৫.৯২ বর্গ কিলোমিটার। প্রতিষ্ঠার পর পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নতিকরণ করা হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার নাগরিক সেবা কিংবা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার কোনো উন্নতি হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে পৌরসভায় রয়েছে হাজারো সমস্যা-সংকট।

পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের ৩০ লাখ টাকা সম্মানি ভাতা বকেয়া। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ মাসের বেতন-ভাতা বাবদ ৬৫ লাখ টাকা বকেয়া। অর্থাভাবে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিদ্যুত্ বিল, ৫০ হাজার টাকা টেলিফোন বিল এবং ৩৩ লাখ টাকা বিএমডিএফ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অবসর সুবিধাসহ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের দাবিতে দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো ধুনট পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রবিবার থেকে তিন দিনের কর্মবিরতি পালন করছে।

ধুনট পৌরসভার সচিব শাহিনুর ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতা বকেয়াসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অন্যান্য পৌরসভার মতো কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছি। এ কারণে পৌরসভার সকল প্রকার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ কর্মবিরতি কর্মসূচির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানবিক দাবিসমূহ মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ইত্তেফাক/নূহু