তাড়াশে সরিষার আবাদ করে বিপাকে কৃষক

 
জলাবদ্ধতা আর সুতিজালের প্রভাবে পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চলতি বছরে কাঙ্ক্ষিত সরিষার আবাদ করতে পারেনি কৃষক। প্রতি বছরই বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় উপজেলার আনাচে কানাচে সরিষার আবাদ হতো। গত বছরের অর্ধেক জমিতে এবার সরিষার আবাদ হয়েছে। অন্য বছরের এ সময় সরিষা ঘরে তোলার সময় হলেও এবার কেবল সরিষা গাছে ফুল ফুটেছে।
 
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষার আবাদ কম হওয়ায় মৌ চাষিরা তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। এবার কম মধু সংগ্রহ করা যাবে বলে মৌচাষিরা জানান। গত বছর যেখানে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল এবার তার চেয়ে অনেক কম জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার মাত্র ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করতে পেয়েছেন কৃষকরা। নাবী হবার কারণে ফলনও তুলনামূলক কম হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
 
এলাকার কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার আনাচে-কানাচে ব্যাপক সরিষার আবাদ করতো কৃষকরা। বর্তমানে সরিষার গাছে-গাছে হলুদ ফুলের সমাহার ঘটেছে। অন্যান্য বছর এ সময় সরিষা মাঠ থেকে ঘরে তুলতো কৃষক। আর এবার সরিষায় কেবল ফুল আসছে। সরিষার আবাদ কম হওয়াতে এবার মৌচাষির সংখ্যাও কম। সরিষা নাবী হওয়ার কারণে ওই জমিতে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কৃষক শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাড়াশের মাকড়শোন, লালুয়ামাঝিড়া, সগুনা, কামারশোন, কুন্দইল, ধাপতেতুলিয়া, সান্দুরিয়া ও ভেটুয়া গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন সুতিজাল ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার সরিষার আবাদ ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানি জমিতে থাকায় কৃষক সময় মত সরিষার আবাদ করতে পারে নাই। তারপরও কৃষক সরিষার আবাদ থেকে বিরত থাকে নাই। তবে এবার সরিষার জমিতে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে শঙ্কিত বলে তারা জানান।
 
শেষ সময়ে সরিষার আবাদ করতে গিয়ে কৃষক অনেকটাই বিপদে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন। সরিষা ঘরে তুলতে এখনও প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লেগে যাবে। এদিকে মাঘ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বোরো ধান রোপণ কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এবার পুরো মাঘ মাস জুড়েই বোরো ধানের রোপণ কাজ চলবে। সরিষার আবাদ করতে গিয়ে কৃষক এবার দু'কুল হারাতে বসেছে। পাবে না কাঙ্ক্ষিত সরিষা আর না হবে ঠিকমত বোরো ধানের আবাদ। তবে সরিষা কম হওয়ায় ইতিমধ্যে সরিষা ছাড়া সকল জমিতেই বোরো ধান রোপণ কাজ শেষ পর্যায়ে। তারপরও কৃষকেরা আশায় করছেন সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করবেন।
 
সরিষার আবাদ কম হওয়া প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, সুতিজাল ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার তাড়াশের অর্ধেক জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ফলন কি হবে তা সরিষা মাড়াই করার পর বোঝা যাবে। তবে কৃষকরা জানান, নাবী হলেও এবার সরিষার ফলন ভাল হবে। সরিষা ঘরে তোলার পর ওই জমিতে কৃষক বোরো ধানের আবাদ করবে।বোরো ধানের আবাদও নাবী হবে। কাজেই কৃষক দু'দিক থেকে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস