ভুয়া জামিন আদেশে ব্যবহার করা হয়েছে হাইকোর্টের দুই বিচারপতির নাম। সেই আদেশ ও জামিননামা পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আর ওই ভুয়া আদেশ ও জামিননামার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন ২২ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলার আসামি মো. সেলিমউদ্দিন। বিষয়টি নজরে আসায় ভুয়া ও জাল জামিন আদেশ প্রস্তুতের ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আদেশ প্রস্তুতের সঙ্গে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার কোন কর্মকর্তা জড়িত কিনা সেটিও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
ভুয়া জামিন আদেশ ধরা পড়া ও আদালতের তদন্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই ধরনের ভুয়া আদেশনামা প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত। এদেও কঠোর হাতে দমন করা দরকার। তিনি বলেন, ভুয়া আদেশ নামায় আসামির পক্ষে যে আইনজীবীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে তার অস্তিত্বও খুঁজে পায়নি।
গত বছরের ৭ জানুয়ারি ২২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. সেলিমউদ্দিন, মো. রফিক, শিরিন সুলতানা, আপন মজুমদার ও দীপক দাসকে আটক করে পুলিশ। পরদিন এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। সেলিমউদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার বর্ধনা দোভাষীপাড়ায়। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন। মামলার এক আসামি মো. রফিক চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জামিন চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন দাখিল করেন।
আসামির আইনজীবী শুনানিকালে আদালতে বলেন, হাইকোর্টের এই বেঞ্চ থেকে গত ১৩ ডিসেম্বর মামলার প্রধান আসামি মো. সেলিমউদ্দিন ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান আদালতে বলেন, এই আদালতের বিচারকদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া জামিননামা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটা আসল নয়। এখানে আমার ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেলদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আমরা জানিনা যে এই মামলায় জামিন হয়েছে। এরপরই আদালথ এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। এরপরই আদালত সংশিষ্ট জামিনের নথি পর্যালোচনা করেন। নথি পর্যালোচনায় দেখতে পাওয়া যায় যে এই নামে শাখায় কোন নথি নেই।
নথি পর্যালোচনাকালে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট শাখার তিন কর্মকর্তা সহকারি রেজিষ্ট্রার বেগম সুলতানা, তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনিরকে তলব করেন। এরা হাজির হয়ে আদালতে বলেন, আদেশ নামায় যে সাক্ষর রয়েছে সেটা আমাদের নয়। এরপরই হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন। আদেশে আসামি রফিকের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতে রফিকের পক্ষে আইনজীবী মো. রেজাউল করিম ও মোহাম্মদ আজিজুর রহমান মিশু উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই