মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ হাসানের (১৫) হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) আব্দুল্লাহ হাসানের বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলা নং-১৬।
মামলার পর মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আবু ইউছুফ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতার তিনজন হচ্ছেন আব্দুর রহিমের প্রতিবেশী আব্দুর নূর বলাই (৫০), তাঁর (আব্দুর নূরের) ভাই বদরুল ইসলাম এবং আব্দুর রহিমের ভাতিজা তারেক আহমদ (২২)। তারা সবাই বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগরের বাসিন্দা। গ্রেফতার তিনজনকে পুলিশ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
এদিকে আব্দুল্লাহ হাসানের হত্যার বিচার চেয়ে পৃথকভাবে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে বড়লেখা উপজেলাবাসী ব্যানারে ও গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে স্থানীয় মোহাম্মদনগর বাজারে জাগরণী ইসলামি তরুণ সংঘের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি আব্দুল্লাহ হাসান বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মনির আহমদ একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্র। নিখোঁজ হওয়ার পর গত ১৯ জানুয়ারি আব্দুল্লাহর মা নাজমা ইয়াছমীন বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এদিকে নিখোঁজ থাকার ১০ দিন পর স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে গত রোববার (২৮ জানুয়ারি) রাতে মোহাম্মদনগর এলাকার একটি নির্জন টিলার ঢালু থেকে আব্দুল্লাহ হাসানের খণ্ডিত পঁচা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে আব্দুল্লাহ হাসানকে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বিকেলে বড়লেখা পৌরশহরে মসজিদ মার্কেটের সামনে বড়লেখা উপজেলাবাসী ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা। ইউপি সদস্য ফয়ছল আলম স্বপনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ, আবুল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মতিন, আরিফ আহমদ।
অন্যদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি মোহাম্মদনগর বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে আব্দুল্লাহ হাসানের বাড়ির সম্মুখে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের সভাপতি আব্দুল হামিদ তাজুল। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম, মোহাম্মদনগর গ্রামের মুরব্বি আব্দুর রহমান ও কাশেম আলী, মোহাম্মদনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক, জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের উপদেষ্টা তানভীর এইচ জাহিদ ও কবির হুসাইন। বক্তারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে বলেন, ‘তিনজনকে আসামি করে মামলার পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের সাথে আব্দুর রহিমের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।’
ইত্তেফাক/নূহু