স্পোর্টস রিপোর্টার
বৃষ্টি হলেই ফুটবলারদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ যেন পুকুরে পরিণত হয়। দেশের বড় গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেডিয়ামের এমন বেহাল অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। গতকাল বিকালে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমিন্ড ক্লাবের খেলা শুরু হওয়ার ৩৫ মিনিটে বৈশাখী ঝড়ে বন্ধ হয়ে যায়।
আবাহনী ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। বৃষ্টির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলে আবাহনী ৪-৩ গোলে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে হারায়। ১২ খেলায় ৩০ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্বের খেলা শেষ করল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।
২৮ সেকেন্ডে শেখ জামালের আর্জেন্টাইন এমানুয়েল লুসিয়ানোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ১-০। লিগের দ্রুততম গোলছিল এটি। ১০ মিনিটের ব্যবধানে আবাহনীর আফগান ফুটবলার মাসিহ সাইঘানির গোলে সমতা ফেরে ১-১। ২৭ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী ২-১। রায়হানের লম্বা থ্রো শেখ জামালের গোল কিপার মঞ্জুরুর রহমান মানিকের মাথায় লেগে নিজেদের জালে গোল হয়। হঠাত্ কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৫ মিনিটে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। রেফারি সহকারী এবং খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে যায়। বালতি দিয়ে পানি সরাতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে এই করুণ চিত্র নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি হলে ড্রেনে পানি গড়ানোর কথা। তা না হয়ে পানি চলে যায় মাঝখানে। সেই পানি বেরিয়ে আসার নালা তৈরি করলে পানি সরে যায়। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বন্ধ থাকে খেলা। এতো বাজে মাঠে স্বাভাবিক ফুটবল খেলাও সম্ভব হয় না।
বৃষ্টির পানি সরিয়ে আবাহনী ও শেখ জামালের খেলাটি শুরু হলে অবশিষ্ট সময়ে আরো ৪ গোল হয়েছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ৬৩ মিনিটে আবাহনীর হাইতিয়ান বেলফোর্ট গোল করেন ৩-১। চতুর্থ গোল করেন জীবন ৪-১। প্রথমার্ধে চোট পেয়ে বিদায় নেয়া লুসিয়ানোর বদলী খেলতে নামা জাকির হোসেন জিকু পরপর দুটি গোল করে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন ৩-৪। ১১ খেলায় লিগের বর্তমান রানার্সআপ শেখ জামালের ১৩ পয়েন্ট। জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরার ১ খেলা বাকি আছে। হারলেও অন্য কেউ টপকে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।
নোয়াখালীতে বিজেএমসির ড্র
নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের আরেকটি খেলায় গোলই হয়নি। ব্রাদার্স ও বিজেএমসির খেলায় গোলের মুখ দেখেনি। হারের কবল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে বিজেএমসি।