'ধন্য ধন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যারে তুমি ধন্য ধন্য শেখ মুজিবের কন্যা, সোনার বাংলা গড়তে তোমার নাই কোন তুলনা, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়া, ক্ষুধার জালায় কোন মানুষ যায় না যেন মারা, সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল ঘাতকের দল, বলতে গেলে সেই কাহিনী চোখে আসে জ্বল, তিনার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা, পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো দেরি করবো না' সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য নিয়ে রচিত উন্নয়নের এ জারিগান গেয়ে সংসার চালাচ্ছেন খুলনার পাইকগাছার জনপ্রিয় বয়াতি আব্দুল মজিদ ও তার দল।
মজিদ বয়াতি উন্নয়নের এ জারিগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০টি উদ্যোগ সহ সকল ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। এমন কোন বিষয় নেই যা তিনি গানের মধ্যে আনেন নাই। এর মাধ্যমে বয়াতি মজিদ একদিকে যেমন বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জারিগানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তেমনি দেশ থেকে যখন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী জারিগান হারিয়ে যেতে বসেছে বয়াতি মজিদ তা ধরে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জারিগান গেয়ে বয়াতি মজিদ ও তার দল যে সম্মানী পান তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়াতি আব্দুল মজিদ বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় তথ্য অফিসের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জারীগান পরিবেশন করার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
উল্লেখ্য, বয়াতি আব্দুল মজিদ ১৯৬৬ সালের ২ মে পাইকগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত কোনাই গোলদার। অভাব অনটনের সংসারে মজিদ বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেনি। সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা মাদ্রাসায় ১০ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮০ সালে চারণ কবি মোসলেম উদ্দীন বয়াতির জারিগান শুনে এর প্রতি মজিদ আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরপরে তিনি উপজেলার তোকিয়া গ্রামের প্রয়াত চারণ কবি ওস্তাদ আব্দুল জব্বার বয়াতির নিকট জারিগান শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর আর মজিদ বয়াতিকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার গান এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বাংলা একাডেমীর বৈশাখী মেলা ও শিল্পকলা একাডেমিতে সার্ক অনুষ্ঠানে জারীগান পরিবেশন করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। তিনি জারিগানের মাধ্যমে ইপিআই, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য, নারী বৈষম্য, নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপদ মাতৃত্ব সহ নানা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে আসছেন।
মজিদ জারিগান গেয়ে ইতোমধ্যে অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেছেন। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী গান গেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পুরস্কার পান। এ সময় তিনি বিভাগীয় তথ্য অফিসের নজরে আসেন এবং সেই থেকে বিভাগীয় তথ্য অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় মজিদ বয়াতি ও তার দল জারিগান পরিবেশন করে আসছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে যে সম্মানী পান তাতে পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দর জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য মজিদ বয়াতির দাবী তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারিভাবে তার এবং তার দলের সদস্যকে বেতন ভাতা প্রদান করা হোক। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন বয়াতি মজিদ ও তার দল।
ইত্তেফাক/এসএস