বরিশালের গৌরনদীতে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা খায়রুল খানের ২ দফা হামলায় টরকি বন্দরের ২ ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। ট্রলার থেকে চাঁদা উত্তোলনে বাঁধা দেয়ায় তারা এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আহতরা। আহতদের গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গৌরনদীর টরকি বন্দর ট্রলার ঘাটের ভুষা মালের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন খান (৫৮) জানান, দুপুর দেড়টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের ট্রলার ঘাটে পণ্যবাহী ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাাঁদা আদায় করছিল স্থানীয় সাহানাজ সরদার (৪৫) ও তার পুত্র ইউসুব সরদার (২০)।
এ সময় আলাউদ্দিন খান চাঁদা তুলতে বাধা প্রদান করলে তারা স্থানীয় কাউন্সিলর খায়রুলকে খবর দেয়। খায়রুল ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যবসায়ীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে খায়রুল ও তার সহযোগীরা। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালামাল তছনছ করে।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছেন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের ফুফাত ভাই টরকি বন্দরের পান ব্যবসায়ী মোঃ আসাদুল্লাহ সরদারের (৪৫) কাছে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় কাউন্সিলর খায়রুল ও তার সহযোগীরা পুলিশের সামনে আসাদুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে তার ২টি দাঁত ভেঙে দেয়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর আগ থেকে টরকি বন্দর ট্রলার ঘাটের টোল আদায় বন্ধ ঘোষণা করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপরেও পৌর কাউন্সিলর খায়রুল খানের নির্দেশে কয়েক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করছে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর খায়রুল খানের মোবাইলে অসংখ্যবার মোবাইল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ইত্তেফাক/নূহু