ইউএনওর হস্তক্ষেপে দাখিল পরীক্ষা দিতে পারলো তাসলিমা

 
ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার মেছড়দিয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন মেয়ে বিলকিস দাখিল পরীক্ষায় ফরমপূরণ করেও শ্বশুরবাড়ির চাপে চলতি দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছিল না। অবশেষে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাই মোল্যা মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদত হোসেন কবিরের হস্তক্ষেপে অনেক রাত পর্যন্ত ওই পরিবারের সকলকে বুঝিয়ে অবশেষে ওই ছাত্রী তাসলিম গতকাল বৃহস্পতিবার মধুখালী শাহ্ হাবিব মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদত হোসেন কবির জানান, মেয়েটির অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মেছড়দিয়া গ্রামের আকুব্বর জোয়াদ্দারের ছেলে সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু তাসলিমা বিয়ে হওয়ার পর তার লেখা-পড়া নিজ উদ্যোগেই চালিয়ে যাচ্ছিল। মেছরদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ফরম পূরণ করে। কিন্তু তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে লেখাপড়া বন্ধ করতে বিশেষভাবে চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিষেধ করেন। পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। উপায়ান্তর না পেয়ে অধ্যক্ষ ইউএনওর দ্বারস্থ হলে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
 
তসলিমা পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুব খুশি। সে জানায় লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছা আছে তার। অবশ্য তার ৯ মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।উল্লেখ্য, বিলকিসের একই গ্রামে মো. আকুব্বর জোয়াদ্দারের ছেলে মো. আলম জোয়াদ্দারের সাথে বিয়ে হয়।
 
ইত্তেফাক/এসএস