যারা পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিং করে তারা জনগণের দল না : হাছান মাহমুদ

 
যারা পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিং করে তারা জনগণের দল না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি। 
 
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ আয়োজিত 'জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও শ্রমিক সমাজ' শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিং করে এটি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। বিএনপির জাম্বু জেট মার্কা কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা হোটেল লা-মেরিডিয়ানে তিন বছর পর হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা প্রতি দুইমাসে একটি হয়। সুতরাং যারা রাজনৈতিক দলের সভা পাঁচ তারকা হোটেলে করে এরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, এরা জনগণের দল নয়, এরা লুটেরাদের দল, এরা শ্রমিকের দল নয়, শ্রমিকের রক্তচোষাদের দল।
 
'বাংলাদেশের সংবিধান কোন শিলায় তৈরি' বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের দোয়াঁশ মাটি থেকে উৎসরিত জনগণের সার্থে এই সংবিধান। আপনারা ভারত, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার উদাহারণ দেন সেখানে যেমন তত্বাবধায়ক সরকার নাই বাংলাদেশেও নির্বাচন কালীন সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
 
'আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ যাতে না হয় সেই লক্ষে নাকি তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে' বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা পুলিশের উপর হামলা চালাবেন, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতায় করবেন, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিবেন এবং সেই অস্ত্র ভেঙ্গে দিবেন আর আপনাদের গ্রেফতার করা যাবে না। এটা কোন ধরনের আইন আমার বোধগম্য নয়। সুতরাং শুধু যারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করলে হবে না। তাদেরকে যারা নির্দেশ দিয়েছে তাদের নেতাদেরকেও গ্রেফতার করতে হবে। আর  আমরা চাই আপনারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। 
 
আওয়ামী লীগের সমস্ত পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আগামী ৭, ৮, ৯ ফেব্রুয়ারি মাটে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী ৭, ৮, ৯, ফেব্রুয়ারি আমরা রাজপথে থাকবো যদি আবারও শ্রমজীবি মানুষের উপর প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, হামলা করা হয়, সেই হামলা প্রতিহত শুধু নয়, হামলাকারীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। 
 
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েলসহ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি