ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মুখে রৌমারী ও রাজিবপুরের ৩৫ হাজার পরিবার

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব প্রান্তে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটির অবস্থান। নদের সরুবামের চ্যানেলটি রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত। বর্তমানে দুই উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার, ২০টি হাট-বাজার, পাঁচটি নৌঘাট, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৭টি মাদ্রাসা, ১২ হাজার হেক্টর জমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদের ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রৌমারী উপজেলার  ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর, বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া ও তিনতেলী এলাকা। অপরদিকে, রাজিবপুর উপজেলায় রয়েছে—পশ্চিম রাজিবপুর, ধলাগাছা, তারাবর, বড়বেড়, মদনের চর, মুন্সীপাড়া, হাজীপাড়া, নয়ার চর, লম্বাপাড়া, সন্দেসীকান্দা, সবুজপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, ঢাকাইয়াপাড়া, দশঘরি পাড়া, বাজারপাড়া, বোল্লাপাড়া, মাঠেরভিটা শংকরপুর, সংকর মাধবপুর, মাধবপুর, উত্তর সাজাই, কোদালকাটি, দক্ষিণ সাজাই, চর সাজাইসহ শতাধিক গ্রাম।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) প্রস্তুত করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিপিপিটি  পরিকল্পনা কমিশন ও একনেক সভায় অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। তবে আগামী বন্যা মৌসুমের আগে প্রকল্প অনুমোদন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। জরুরি কিছু প্রকল্প আছে বরাদ্দ পেলে বন্যা মৌসুমে নদের ভাঙন রোধে কিছুটা হলেও রক্ষা সম্ভব হবে।’

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘দুই বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ কাজের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। ওই ডিপিপি তৈরির কাজে বারবার ভুল হয়। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে কথা বলেছি, নোটিস দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল রৌমারী ও রাজিবপুর রক্ষায় ৬৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়ন (ডিপিপি) তৈরি হয়েছে। প্রকল্প একনেকে সভায় অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।’ রৌমারী নদী ভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নদী ভাঙনের ফলে উদ্বাস্তু হওয়া স্থানীয় বে-সরকারি সংস্থা সিএসডিকে’র নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ  জানান, গত পাঁচ বছরে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার  প্রায় ৫০ হাজার পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের  বিভিন্ন শহরের বস্তিতে বসবাস করছে। উদ্বাস্তু পরিবারের পুনর্বাসন ও নদীভাঙন রোধ করা না হলে আগামী ১০বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু