৪ কি.মি. পথ হামাগুড়ি দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে তমালিকা

 
জন্ম থেকেই তমালিকা খাতুনের পা দুটি উল্টো, বাঁকা ও সরু। এতে করে দুই হাত দিয়েই চলতে হয় তাকে। পায়ে জোর নেই তো কী হয়েছে, তার মনের জোর আছে শতভাগ। এ জন্য বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে এ বছর দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে তমালিকা।
 
তমালিকার বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি দিদারপাড়া গ্রামে। রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। বাবা সেকেন্দার আলী অন্যের জমি চাষ করেন। জমিজমা বলতে আছে মাত্র ১০ শতক বসতভিটা। এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তমালিকা ছোট। মা সফুরা খাতুন মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। সৎ মা মর্জিনা খাতুন তমালিকার দেখভাল করেন।
 
তমালিকার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই সে হামাগুড়ি দিয়ে এবং ভাইয়ের সাহায্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। ২০০৭ সালে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় তমালিকা। এতে ৩ দশমিক ৬৫ পেয়ে সে কৃতকার্য হয়। ২০০৮ সালে তমালিকা রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অভাব-অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন তমালিকা লেখাপড়ার খরচ জোগাতে বাড়িতে বসে টুপি সেলাই করে। এ কারণে চার বছর তার লেখাপড়া বন্ধ ছিল। অবশেষে ২০১৫ সালে আবারও মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে সে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে ১ দশমিক ৮৫ পেয়ে কৃতকার্য হয়।
 
তমালিকার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'তমালিকার সমবয়সী অন্য সব ছেলেমেয়ে যখন রোজ বিদ্যালয়ে যেত, তখন সে কান্নাকাটি করত। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না তার।' এদিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার। তমালিকার ইচ্ছাশক্তি দেখে তিনি নিজের কাজ বন্ধ করে কখনো কোলে করে আবার কখনো সাইকেলে করে নিয়ে বিদ্যালয়ে দিয়ে আসেন।
 
আজ শনিবার পরীক্ষা শেষে ধুনট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা হয় তমালিকা খাতুনের সঙ্গে। পড়ালেখা শিখে ভবিষ্যতে কি হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তমালিকার জবাব, আদর্শ শিক্ষক হবো। তার চোখে স্বপ্নের দ্যুতিময়তা। আর মনে আছে প্রতিজ্ঞা পূরণের প্রত্যয়।
 
IMG0
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলার রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুল হামিদ বলেন, 'তমালিকা মেধাবী। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা রয়েছে। তাই তার বই-খাতাসহ যাবতীয় উপকরণ মাদ্রাসা থেকে সরবরাহ করা হয়। এবার তার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে টাকা নেওয়া হয়নি।'
 
ইত্তেফাক/এসএস