বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় ভুগছে নানা সংকটে

শিক্ষার মান বিবেচনায় উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পরও আলমডাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নানামুখী দূরাবস্থায় ভুগছে। শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষাদান মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। অথচ উপজেলার অনুকরণীয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কর্তৃপক্ষের তেমন নজর নেই!

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারেছ উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, বর্তমানে সব শ্রেণি মিলিয়ে স্কুলটিতে ৬৫৪ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন মোটে ১২ জন। তিনি জানান, সরকারী নিয়মে প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকার কথা। কিন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতি ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক শিক্ষাদান করতে বাধ্য হচ্ছে। ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে দুই জন পুরুষ শিক্ষক। বাকি সবাই মহিলা। মহিলা শিক্ষকদের দু-একজন প্রতিবছর মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করে থাকেন। এ সময় শিক্ষাদান কিছুটা ব্যহত হয়।

বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে ৫ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তিনটি শ্রেণি কক্ষের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। ওপর মহলে নানাভাবে ধর্ণা দিয়েও বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যালয়টির সংকট সমাধান করা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জানুয়ারি মাস এলেই উপজেলার অতি মানসম্পন্ন এই সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবককরা তার সন্তানদের ভর্তি করাতে ভীড় জমান। কিন্ত আসন, শিক্ষক সংকট এবং কক্ষ সংকটের কারনে বেশীরভাগ অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে ভর্তি করাতে না পেরে শিক্ষকদের সাথে অশোভনীয় আচরনে লিপ্ত হন। এ নিয়ে দেখা দেয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। হিমশিম খেতে হয় প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মন্ডল সোনাহারকে। প্রতিবছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাল ফলাফলের কারনে এই ভর্তিযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকার ইত্তেফাককে জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ধরে রাখতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। অতিরিক্ত কক্ষ নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু