প্রশাসন ও পুলিশ খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকলে দেশ চলছে কীভাবে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলাটি (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) বিচারাধীন, কি রায় দেবেন সেটা বিচারক জানেন। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই। তবে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। আর প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীসহ সবকিছু যদি খালেদা জিয়ার সঙ্গেই থাকে তাহলে দেশ চলছে কিভাবে? গতকাল রবিবার সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আ.খ.ম জাহাঙ্গীর প্রশ্ন করেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। শনিবার উনি বলেছেন- প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ১৬ কোটি মানুষ নাকি তার সঙ্গে রয়েছে। তাহলে আমরা কোথায়?’

জাসদের নামজুল হক প্রধানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশের আলেম সমাজ ওনাকে  (হেফাজতের আমির আল্লামা শফিকে) সম্মান করেন। শুধু তারা নন, ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকরাও তাকে সম্মান করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে পাশে একটি অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম, সেখানে যাওয়ার পর ওনার অসুস্থতার কথা জানতে পারি, পরে ওনাকে দেখতে যাই। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়েছেন। শফি সাহেব গণভবনে এসে সেই স্বীকৃতি গ্রহণ করেন।’  সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সম্প্রতি পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে। দুটি রাইফেল ও প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার সামনের বহর থেকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, ফুটেজ দেখে সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হবে, পুলিশ সেই কাজটিই করছে।

মাদক সম্পর্কিত বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকের প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করছে। আমরা প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গেও কথা বলেছি। ভারত সহযোগিতা করছে, কিন্তু মিয়ানমার সেইভাবে সহযোগিতা করছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবিসহ প্রশাসন কাজ করছে।

আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলার বিপরীতে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের মামুনুর রশীদ কিরণের  এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন সংসদকে জানান, রোহিঙ্গাদের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশরোধ, মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধ, বিভিন্ন প্রকার সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় শাহপরীর দ্বীপ থেকে ২৭১ কি.মি. রিং রোডসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান,  বিভিন্ন পেশায় ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক।

ইত্তেফাক/নূহু