রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী বাদশা হত্যা মামলায় বড় ভাই ও দুই ভাতিজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই রায় প্রদান করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দারের বড়ভাই আব্দুল খালেক (৭০), ভাতিজা মিটন (৩১) ও রাশেদ (২৫)। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ৩ আসামির প্রত্যেকের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে সরকার পক্ষের আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া আরেকটি ধারায় ৩ আসামির প্রত্যেককে ছয় মাস করে কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই মামলায় আরো ৭ আসামিকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এরা হলেন- আমিরুল হক, আজাদুল হক, রায়হান, আব্দুল কুদ্দুস, মজনু মিয়া, মাহাবুব ও বাবু। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মনোনয়ার, বুলবুল, সেলিম মিয়া, কামরুল ইসলাম, মোস্তা মিয়া ও মোক্তার মিয়া নামের ৬ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর পালিচড়া মাধবপুর এলাকায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে সেকেন্দার আলী বাদশার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই আব্দুল খালেকের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৪ সালের ৯ জুলাই সেকেন্দার আলী জমিতে ধান রোপন করছিল। এ সময় সময় বড় ভাই আব্দুল খালেক তার পুত্র মিটন ও রাশেদসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা সেকেন্দার আলী বাদশাকে পিটিয়ে আহত করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ১০ জুলাই নিহত সেকেন্দার আলী বাদশার পুত্র কামরুজ্জামান লাবু বাদি হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি