বছর ঘুরে বছর এলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর হয় না। ঢাকা মহনগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো ৭ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। গত ১০ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হয়ে গেল পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই। চলছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক— এ দুইটি পদ দিয়েই। পদপ্রত্যাশী নেতাদের অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষ হয় না। একই অবস্থা সহযোগী সংগঠনেও। ১৩ বছর আগে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়, এরপর আর হয়নি। ঢাকা মহানগর যুবলীগ ও কৃষক লীগের কমিটির মেয়াদ ২০১৫ সালে উত্তীর্ণ হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি পৃথক তিনটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে বলেছেন, রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী দেখতে চাই। এ সময় তিনি রাজধানীর থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে চলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই নতুন কমিটি পাওয়ার আশা করছেন।
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ৭৫ সদস্যের মহানগর কমিটি এবং মহানগর উত্তরের অধীনে ২৬টি থানা, ৪৬টি ওয়ার্ড ও নয়টি ইউনিয়ন এবং দক্ষিণের ২৩টি থানা ও ৫৭টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। দুই সদস্যবিশিষ্ট ৫০টি থানা, ৯৩টি ওয়ার্ড ও ১৭টি ইউনিয়ন কমিটি আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
জানা গেছে, মহানগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব নগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। তারা কিছু কমিটির প্রস্তাব করলেও সেসব কমিটি নিয়ে আপত্তি আসে খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সভানেত্রী দলের প্রেসিডিয়ামের দুই সদস্যকে এই অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। ওই দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেই সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। গত বছর ঢাকা মহানগরের সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ৩১ মের মধ্যে ঘোষণা করার নির্দেশ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে, হচ্ছে— এই বলে তিন বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয় গত ১০ এপ্রিল।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৬ সালের ৩১ মে। এরপর পেরিয়ে গেছে ১৩ বছর। যুবলীগ ও কৃষক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের জুলাই মাসে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৭ বছর; কিন্তু সংগঠন দুইটির জাতীয় সম্মেলন হয়নি। তিন বছর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালের ১৪ জুলাইয়ের কাউন্সিলে যুবলীগের চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হন হারুন অর রশিদ। আর সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদও পেরিয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। যুবলীগ, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির মেয়াদও তিন বছর আগে শেষ হয়েছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত জানান, যেসব থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি, সেগুলো আগামী সম্মেলনের পরে করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সম্মেলনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরে। নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ জানান, দুই তিনটি বাদে বাকি সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। অচিরেই বাকিগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, আমরা ওয়ার্ড-থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে অনুমোদন দিয়েছি। সেই কমিটিই চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনগুলোর সম্মেলন দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ থেকে শিগগিরই নির্দেশনা আসবে।