বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং এখাতে অনিময়-অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বুধবার টিআইবি’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তোরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশ করেছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার ও মো. জুলকার নাইন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এডভোকেট সুলতানা কামাল এবং টিআইবির অ্যাডভাইজার (এক্সিকিউটিভ ম্যানেজমেন্ট) ড. সুমাইয়া খায়ের।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করে আইন হিসেবে প্রণয়ন করতে হবে। যেখানে- নার্সিং হোম, ক্লিনিক, জেনারেল হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোর সজ্ঞা নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠানের সেবার ধরণ ও শয্যা অনুযায়ি ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিকরণ করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি অনুযায়ি নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (তথ্য প্রাপ্তি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে) তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ি, গত চার দশকে নিবন্ধিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩টি এবং বর্তমানে এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯৮টি। সারাদেশে নিবন্ধিত ১১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করে ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তোরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি হাসপাতাল ও ৫০টি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর মধ্য হতে ২৬টি প্রতিষ্ঠান ও ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকা থেকে ৯০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। টিআইবি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বেসরকারি চিকিৎসাসেবার নানান দুরাবস্থা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের অনুমোদন না নিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করে, অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টি পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেয়নি। নির্বাচিত এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। আর ২২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একইভবনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে। বাসস
ইত্তেফাক/কেকে