বোমায় মানুষ হত্যার অপরাধে বেগম জিয়ার বিচার করা হোক: ড. হাছান মাহমুদ

 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আন্দোলনের নামে দেশে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।
 
বুধবার (৮ ফেব্রোয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোট আয়োজিত 'খালেদা জিয়া ও তার পরিবার কর্তৃক আত্মসাৎকৃত ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করা হোক' শীর্ষক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
 
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শুধুমাত্র দুর্নীতি মামলার বিচার করলে হবে না। তার নির্দেশে ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে যে ভাবে পেট্রোল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই সমস্ত মামলার হুকুমের আসামি হিসেবে এই মামলায়ও তার বিচার করা হোক এবং বেগম জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সারা পৃথিবীতে আজকে তার যে সম্পদ সে খবর বেরিয়েছে তার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে সেগুলো উৎঘাটন করে মামলা দায়ের করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
 
১৯৯৩ সালে বেগম জিয়ার এতিমখানার নামে খোলা একাউন্টের দুর্নীতি মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই মামলা এবং অন্যান্য গুলো খালেদা জিয়ার পচন্দনীয় ফখরুদ্দিন, মঈন উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিল। সেই এতিমখানার ঠিকানা হচ্ছে মঈনুল রোড, একাউন্টের ঠিকানা হচ্ছে মঈনুল রোড আর স্বাক্ষরকারী হচ্ছেন খালেদা জিয়া। সেই একাউন্টে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা কুয়েতের আমিরের কাছ থেকে আসে ১৯৯৩ সালে। তার দুই বছর পর বেগম জিয়ার স্বাক্ষরে টাকা তুলে তারেক এবং কোকোর একাউন্টে রাখা হয়। এবং তাদের নামে বগুড়ায় জমি কেনা হয়। সুতরাং এখানে দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশে হত্যা মামলার রায় এক বছরের মধ্যে হয়ে যায় আর এই মামলার কার্যক্রমে তারা আদালতের কাছ থেকে একশত পঞ্চাশ বার সময় নিয়েছিল। দশ বছর পর এই মামলার রায় হতে যাচ্ছে।
 
তিনি বলেন, আপনারা তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার কারণে যে ভাবে গত নির্বাচন বর্জন করেছিলেন এবার যদি একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহলে বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সুতরাং আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বিএনপি বড় নাকি বেগম খালেদা জিয়া বড়।
 
আওয়ামী লীগের সমস্ত পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শুধু আগামীকাল নয় আমরা জানতে পেরেছি তারা দেশে চোরাগোপ্তা হামলা এবং নেতাদের উপর হামলাসহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যেটির মহড়া কদিন আগে তারা হাইকোর্টের সামনে দিয়েছে। সুতরাং আগামীকাল শুধু সর্তক দৃষ্টি রাখলে হবে না আমাদের আগামী কিছুদিন সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং এই সন্ত্রাসী ও অান্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত দুর্নীতিবাজদেরকে প্রতিহত করতে হবে।
 
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম, সংগঠনের সহ-সভাপতি সারাউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি