বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও শিবগঞ্জের মোকামতলা কেন্দ্রে মুঠোফোনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার জোড়গাছা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুক বুধবার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালীন বেলা ১১টার দিকে সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে মুঠো ফোনে প্রশ্ন দেখে উত্তর তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছিলেন। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল কাদের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর এবং বাহিরে পরিদর্শন করছিলেন। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষককে দেখে তার সন্দেহ হয়। তিনি পুলিশকে দিয়ে তাকে আটক করেন। পরে তার মুঠো ফোন জব্দ করার পর দেখা যায় ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার ক-খ সেটের প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে তার যোগসাজোস রয়েছে। মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অসংখ্যবার কথা হয়েছে।
আটককৃত শিক্ষক ওমর ফারুক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার মোবাইলে কোনো প্রশ্নপত্র ছিল না। তবে একটি সাজেশন ছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল কাদের জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ দেখার সময় ওই শিক্ষকের হাতে মোবাইল ফোন দেখে সন্দেহ হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে ওই শিক্ষক জড়িত রয়েছে। তার মোবাইল ফোনে আগের অনুষ্ঠিত সকল বিষয়ের সকল প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুঠোফোনটি পরীক্ষা করলে এর মূল হোতাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
এদিকে জেরার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে মুঠোফোনে ক্ষুুদে বার্তা দেখে লেখার সময় গাংনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র কবির হাসান রোল নং-৫৮৮০৪ মুঠোফোন ও উত্তরপত্রসহ আটক করা হয়। কবির গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঁমুরগাছা গ্রামের শহিদুল ইসলাম ছেলে। পরে মোকামতলা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব বাদী হয়ে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই ছাত্রকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুশান্ত মাহাতো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি