৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃংখলা ঠেকাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে থানা পুলিশ। উপজেলার ভূরঘাটা এলাকা থেকে আজ সন্ধ্যায় খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ বারেক সরদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতারের ভয়ে এ উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। অবশ্য পুলিশ বলছে, তারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করছে।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় নিয়ে গৌরনদী ছাড়াও সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। দলীয় কোন কর্মসুচী না থাকলেও নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে অভিযানের নামে তল্লাশি করছে পুলিশ। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত তিনদিনে রাতে পুলিশ উপজেলার শরিকল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মৃধা, বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সরদার গফুর, সরদার মাসুদ, পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মিয়া, সরকারি গৌরনদী কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি জাকির হোসেন রাজা, সাবেক জিএস ফুহাদ হোসেন এ্যানিসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।
ইতিমধ্যে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বারেক সরদারকে (৩৮) উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হাওলাদার (৪২), উপজেলা জামায়াতের সদস্য মোস্তফা আনোয়ারুল ইসলাম (৬২), পৌর জামায়াতের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা (৫২)কে গ্রেফতার করে বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় সন্দোহভাজন আসামি হিসেবে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিশেষ অভিযান চলছে।’ তবে যে কোন অরাজকতা সৃষ্টির আশংকায় সতর্কাবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ।
ইত্তেফাক/নূহু