বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টর মামলার রায় ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বগুড়ায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
রায় ঘিরে যেকোন ধরণের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিস্থিতি মোকাবেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে শহরের সাতমাথা টেম্পল রোডে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই অবস্থান গ্রহণ করেছে দলটির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে সকাল থেকেই তারকাটা ও ব্যারিকেড দিয়ে শহরের নবাববাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ের উভয়পাশে অবস্থান নিয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এই সড়কে কোন যান ও সাধারণ জনগণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অফিসটি তালাবদ্ধ রয়েছে। কোন নেতা কর্মীদের আশপাশে দেখা যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ আশেপাশে বিভিন্ন গুরুত্ব এলাকা ও মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অবস্থান নেয়। পাশাপাশি যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাতমাথা এলাকায় সাজোয়া যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালেদার মামলার রায় ঘিরে শহরের সাতমাথা, বনানী, ঠনঠনিয়া, চারমাথা, তিনমাথা, মাটিডালী, ইয়াকুবিয়ার মোড়, থানা মোড়, চেলোপাড়া, দত্তবাড়ি, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীদের সদস্যদের বিভিন্ন মাধ্যমে টহল দিতে দেখা যায়। সম্ভাব্য যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে শহরের এসব স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেশ তৎপর দেখা যায়।
জেলার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রায় ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেবল বগুড়া শহর ও শহরতলী এলাকায় কমপক্ষে ১হাজার ২শ’ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২) সদস্যরা শহর জুড়ে টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শহর এলাকায় তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। কোন কিছু সন্দেহজনক মনে হলেই তল্লাশি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ কাজটি করা হচ্ছে। এতে মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছে না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ইত্তেফাক/এসএস