গ্রামীণফোনের জরিমানা আরো বেড়ে ৫ কোটি

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের জরিমানা আরো বেড়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও স্পেকট্রাম বিভাগের আপত্তিতে সেটা বেড়ে ৫ কোটি ১৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া ১৭টি টাওয়ার তৈরি ও ব্যবহারের কারণে গ্রামীণফোনকে এই জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে বাংলালিংক সীমান্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া টাওয়ার তৈরি করে যে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করেছিল সে কারণে তাদের জরিমানা করা হয়। গ্রামীণফোনকেও সমানুপাতে জরিমানা করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত  রিপোর্ট ছাপা হওয়ার পর বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ গ্রামীণফোনের জরিমানার টাকার অংক নিয়ে আপত্তি করে। তাদের দাবি, গ্রামীণফোনের গ্রাহক বেশি। ফলে তারা আয়ও করেছে বেশি। এ কারণে তাদের গ্রাহক অনুযায়ী জরিমানা করতে হবে। পরে হিসাব করে জরিমানা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এই টাকা তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় এ সব টাওয়ার তৈরি করে গ্রামীণফোন, যেগুলো স্থাপনের কোনো অনুমোদন বিটিআরসির কাছ থেকে নেয়নি অপারেটরটি। অনুমোদন ছাড়া এ সব টাওয়ার ব্যবহারের জরিমানা হিসেবে এখন অপারেটরটিকে এ অর্থ দিতে হবে। টাওয়ার ব্যবহার করে গ্রামীণফোন যে অর্থ আয় করেছে সেটিই এখন জরিমানা হিসেবে বিটিআরসিকে ফেরত দিতে হবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য গ্রামীণফোনকে সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়া হবে বলে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সীমান্ত এলাকায় টাওয়ার থেকে অপারেটরদের আয় তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সব এলাকায় টাওয়ার তৈরির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অনুমোদন ছাড়া তাই এ সব এলাকায় টাওয়ার তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে চোরাচালান বন্ধে সরকারের নানাবিধ তত্পরতা হোঁচট খায় এই মোবাইল টাওয়ারগুলোর কারণে। এক দেশের সন্ত্রাসীরা অন্য দেশের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই টাওয়ারগুলো ব্যবহার করে আলাপ-আলোচনা করে।

বিটিআরসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় অনুমতি না নিয়ে মোট ৩৬৭টি টাওয়ার তৈরি করেছে গ্রামীণফোন। এর মধ্যে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩৫০টি বিটিএস তৈরি করা হয়। সেগুলোর তখন বৈধতা দেয় বিটিআরসি। বাকি ১৭টি বিটিএস পরবর্তী তিন বছরে তৈরি করা হয়। পরে এগুলোর আর অনুমতি নেয়া হয়নি। একটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে সীমান্ত এলাকায় বিটিএস তৈরি করতে হলে বিটিআরসি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু বিটিআরসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে ঠিকানা দিয়ে গ্রামীণফোন এ সব বিটিএস তৈরি করেছে তার মধ্যে ৪০টির ঠিকানা পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তন করার বিষয়টি পরবর্তীতে আর বিটিআরসিকে জানানো হয়নি। তারা ইচ্ছেমতো ঠিকানা বদল করেছে এবং দিব্যি সেসব টাওয়ার ব্যবহার করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিটিআরসির এ ধরনের সিদ্ধান্তের খবর আমাদের জানা নেই। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করব না।’



ইত্তেফাক/নূহু