ভৈরব ও করতোয়ার তীর দখলের অভিযোগ!

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ওপর দিয়ে বহমান দুইটি নদী করতোয়া ও ভৈরব নদের জমি কিছু প্রভাবশালীর কবলে পড়ে বেদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা নদীর দুই পাশ ভরাট করে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিত্বে এসব অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদী দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখাসহ নদী খননের দাবি জানিয়েছেন।  

জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে—জীবননগর উপজেলার উথলী, আন্দুলবাড়িয়া ও বাঁকা ইউনিয়ন এবং জীবননগর পৌরসভা এলাকায় ভৈরব নদের প্রায় ৮৩ হেক্টর এবং করতোয়া নদীর প্রায় ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। সরজোমিনে নদীর অবস্থান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—এ দুই নদ-নদীর কিছু অংশ দখল করে এর দুই পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে তাতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। অনেকে আবার নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। এ সব কারণে দুই নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আন্দুলবাড়িয়ার কৃষক জসিম উদ্দীন জানান, পূর্বে ভৈরব নদের পানি দিয়ে তিনি ধানসহ অন্যান্য ফসল ক্ষেতে সেচ দিতেন। কিন্তু নদের মাঝ বরাবর বাঁধ দেয়ার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে ভৈরব শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন দিয়ে ফসল ক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে। ফলে উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো জানান—ভূমিদস্যুরা এর আগেও এভাবে নদের জমি দখল করে নিয়েছিল। সে সময় প্রশাসন তা দখলমুক্ত করলে আমরা আবার ক্ষেতে সেচের সুবিধা ফিরে পাই।

সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা নদীর পাড়ের মাটি কেটে সমান করে চাষাবাদ ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান—সে সকল ব্যক্তি নদ-নদীর দুই পাড় অবৈধ দখল করে চাষাবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ উপজেলার নদ-নদীর খনন কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু