আবুল খায়ের
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই ঘটনা ধামাচাপা ও জড়িতদের রক্ষায় একাধিক গডফাদার মাঠে ছিল। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার যৌন নির্যাতনের পর নুসরাত মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদকে বিষয়টি জানান। কিন্তু পর্ষদের কোনো কোনো সদস্য নানাভাবে কটূক্তি করে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায়ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অবিচল ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী নুসরাত। অভিযোগ জানাতে সর্বশেষ তিনি যান থানায়। সেখানে মামলা দায়ের করতে গিয়েও তাকে অপমানের শিকার হতে হয়।
অধ্যক্ষসহ জড়িত ঘাতকদের রক্ষায় ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একাধিক গডফাদার প্রভাব বিস্তার করে। এসব গডফাদার অধ্যক্ষের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে উেকাচ পেয়ে আসছিলেন। তাদের কারণেই যৌন নির্যাতন, দুর্নীতি-অনিয়মসহ নানা অপকর্ম করেও সিরাজ উদদৌলা পার পেয়ে আসছিল। কিন্তু নুসরাতের ওপর যৌন নির্যাতন করে ধরা খেলেন অধ্যক্ষসহ ঘাতকরা। এই ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা নানা চেষ্টা করেছিলেন। অধ্যক্ষের কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার একজন নেতা, তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদেরও প্রভাবশালী সদস্য। নুসরাত পরিচালনা পর্ষদে বিচার চাইলে ওই নেতা আজেবাজে কথা বলে তাকে তাড়িয়ে দেন। উল্টো তাকে শাসিয়ে দিয়ে বলেন, বিষয়টি কারো কাছে প্রকাশ করলে তোমার খবর আছে। একইভাবে ওই অধ্যক্ষ স্থানীয় থানাকেও ম্যানেজ করেছেন। ওসি নুসরাতকে অশালীন কথা বলে অপমান করেন। কিন্তু নুসরাতের অবিচল অবস্থানের কারণে গডফাদার ও ঘাতকদের সব অপচেষ্টাই ভেস্তে যায়। নুসরাত বলেছিলেন, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাবেন। ঠিকই তিনি জীবন দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছেন। পিবিআইসহ একাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে ওই গডফাদারদের নাম উঠে এসেছে। তারা নেপথ্যে থেকে নুসরাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানাভাবে কলকাঠি নেড়েছিলেন। উপযুক্ত প্রমাণ পেলেই তদন্তকারী সংস্থা তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবেই—এমন তথ্য ইত্তেফাককে জানিয়েছে।
সোনাগাজীর এলাকাবাসী ও নুসরাতের সহপাঠীরা বলেছেন, নুসরাতের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নেপথ্যে থেকে এমন কোনো তদবির নেই যা গডফাদাররা করেননি। তাদের দুঃখ, কেউ কেউ সরকার দলীয় লোক হয়েও জামায়াতের রোকন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা নিয়ে দলীয় আদর্শের কথা ভুলে গেছেন। নুসরাতের ঘটনায় জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন আইনের আওতায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্দেশের ফলে গডফাদারসহ প্রভাবশালীরা আত্মগোপনে চলে যায়। এলাকাবাসী ও নুসরাতের সহপাঠীরা ঘাতকদের রক্ষায় নেপথ্যের গডফাদারদেরও গ্রেফতারের দাবি জানান।