চিরাচরিত গ্রাম বাংলার সংস্কৃত আর ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক খেজুর রস। কালের বিবর্তনে আজ সেটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। হ্রাস পেয়েছে মাঠ, ঘাট, বিল আর নদীর চরজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ।
শীতের শুরু থেকে খেজুর গাছ তোলা শুরু হয়। গাছি তার কোমরে দড়ি বেঁধে গাছের মাথায় উঠে আপন মনে মাথা তৈরি করে। অবশেষে খিল বসিয়ে পাত্র (ভাঁড়) পেতে দিয়ে রস সংগ্রহ করে থাকে। মাঝ রাতে কিংবা রাতের শেষ প্রহরে গাছে উঠে হাড়ি পাতিল দিয়ে ঝেড়ে আনা হতো স্বাদের রস।
একসময় স্বাদে আর গন্ধে শীতকালীন সময়ে গ্রাম বাংলার প্রতিটি বাড়িতে মাতিয়ে রাখত পিঠা, পুলি আর পায়েস। ঢেঁকিঘরে চাউল মাড়ানোর ঢক ঢক শব্দ শোনা যেত। শীতের সকাল হতেই যেন রোদে বসলে হাজির হতো নারকেল আর চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি করা রসে ডোবানো টইটুম্বুর রস পিঠা। একখানা মুখে উঠাতেই যেন আরেকটি খাওয়ার স্বাদ মাথায় চেপে বসত। খেজুরের তৈরি আখের পাটালি তালা উপজেলাসহ গোটা সাতক্ষীরার এলাকায় বেশ নাম করা। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। যদিও হাতে গোনা কিছু সীমিত গাছ উঠানো হয় তার দাম আকাশচুম্বী। যে রস ভাঁড় প্রতি ১০ টাকায় বিক্রি হতো বর্তমানে তা ডুমুরের ফুল হওয়ায় ১শ' থেকে দেড়শ' টাকায় বিক্রি করা হলেও সেটাও মিলছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর ন্যায় সাতক্ষিরার তালা উপজেলার মাঠ-ঘাট ছাড়াও নদীর চরজুড়ে ছিল শত শত খেজুর গাছ। নদী সচল থাকায় পানি সহজে নেমে যেত। কিন্তু টানা কয়েক বছর অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকায় গাছের গোঁড়ায় জমে সেটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। এছাড়া জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, লবণ পানির আগ্রাসন এবং জ্বালানি হিসেবে ইট ও টালি পোড়ানোর কাজে অবাধে খেজুর গাছ ব্যবহারের ফলে ব্যাপকহারে হ্রাস পায় খেজুর গাছ। বর্তমানে বসত বাড়ির কিংবা ক্ষেত খামারের পাশেও খেজুর গাছের দেখা মেলে না। তাই আবারও যাতে মাঠ, ঘাট আর চরবিল জুড়ে খেজুর গাছের সমারোহ সৃষ্টি হয় তার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদগণ।
ইত্তেফাক/এসএস