রমনা বটমূলে বোমা হামলা

দেড় যুগেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

রমনা বটমূল বোমা হামলার পর পেরিয়ে গেছে দেড় যুগ। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি ওই ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বিচার। এর মধ্যে বিচারের একটি ধাপ পেরিয়ে হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স। আর বিস্ফোরক মামলাটি এখনো নিম্ন আদালতেই বিচারাধীন। অভিন্ন ঘটনা, জব্দ তালিকা, আসামি ও সাক্ষী এক হওয়ার পরেও বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে রয়েছে পৃথক আদালতে মামলা দুটির বিচার কার্য হওয়া। হত্যা মামলায় যেসব সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের সাক্ষ্যেই বিস্ফোরক মামলার বিচার শেষ করা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, একই আদালতে যদি দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে চলতো তাহলে বিলম্ব বিচারের নজির এড়ানো সম্ভব হতো। ঢাকা ল’ রিপোর্টার্স (ডিএলআর) এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে এ মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি দরকার। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে।

২০০১ সালে বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনা বটমূলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ। ঘটনার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৪ সালে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত হত্যা মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডের রায় ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তুত করা হয় পেপারবুক। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। ৬/৭ মাস শুনানির পর হাইকোর্ট মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বারবার সময় দিলেও আইনজীবীরা আদালতকে অসহযোগিতা করায় মামলাটি তখন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বর্তমানে মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে। এই বেঞ্চের ডিএজি মো. মনিরুজ্জামান রুবেল বলেন, আশা করি অচিরেই মামলাটির শুনানি শুরু হবে।

বিস্ফোরক মামলা

বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, মামলা দুটির বিচার একসঙ্গে একই ট্রাইব্যুনালে পরিচালনার জন্য হাইকোর্টে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু চার বছরেও ওই চিঠির জবাব না পাওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন আদালতে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার চাঞ্চল্যকর দুটি মামলার বিচার হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালে। আর সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে অনীহা তো রয়েছেই। ফলে বিস্ফোরক মামলাটির বিচার শেষ হতে সময় লাগছে।